রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : রাজধানীর বাজারে সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই সবজির বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি মুরগি, মাছ, চাল, ডাল ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। তবে ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু ও পেঁপে ছাড়া প্রায় সব সবজির দামই এখন চড়া। পাশাপাশি মাছ, ডাল, আটা, ময়দা ও চা পাতার দামও বেড়েছে সাম্প্রতিক সময়ে।
সবজির বাজারে অস্থিরতা
বাজারে বর্তমানে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে। নতুন গোলাকৃতির বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১৪০ টাকা কেজি দরে। বরবটি, করলা, চিচিঙ্গা, কচুর লতি ১০০-১২০ টাকায়, ধুন্দল ৮০-১০০ টাকায় এবং ঝিঙ্গা, পটল, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকার আশেপাশে বিক্রি হচ্ছে।
একমাত্র পেঁপে এবং আলুর দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। আলু ২৫-৩০ টাকা এবং পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শাকের বাজারেও দাম ঊর্ধ্বমুখী। লাল শাক, কলমি বা হেলেঞ্চা শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়, আর পুঁই শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়।
মুরগির দামও বাড়তির দিকে
বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে এই দাম ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। হাজিপাড়া বউবাজারে মুরগি বিক্রেতা আবু সাইদ আহমেদ বলেন, সবজি ও মাছের চাহিদা বেশি। এর প্রভাব মুরগির দামের ওপরও পড়েছে। তবে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম এখন স্বাভাবিক ধরে নেওয়া যায়।
ডিমের বাজারে সামান্য স্বস্তি
ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির লাল ডিমের ডজনের দাম এক সপ্তাহে ৫-১০ টাকা কমেছে। আগে যেখানে ১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হতো, এখন তা নেমে এসেছে ১৪০ টাকায়। তবে কিছু খুচরা দোকানে এখনো হালি প্রতি ৫০ টাকা রাখা হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ বেড়েছে বলেই ডিমের দাম কমতে শুরু করেছে।
চাল, ডাল ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজারেও চাপ
চালের দাম এখনো চড়া থাকলেও গত দুই সপ্তাহে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ১-২ টাকা কমেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭২-৮৫ টাকায়। মানভেদে নাজিরশাইল চালের দাম ৭৫-৯৫ টাকা। ব্রি-২৮ চাল পাওয়া যাচ্ছে ৬২ টাকায়, আর মোটা ধরনের স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬০ টাকায়। পাশাপাশি ডাল, আটা ও চা পাতার দামও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম