বরিশাল নগর প্রতিনিধি: বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নগরীর ২৩নং ওয়ার্ড নবগ্রাম রোড খালপাড় এলাকায় প্লানবিহীন বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। নগরবাসীর অভিযোগ—খালের পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে ভবন নির্মাণের অনুমোদন বন্ধ থাকলেও গোপন লেনদেনের মাধ্যমে ভবন নির্মাণের সুযোগ পাচ্ছেন প্রভাবশালীরা।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—খাল থেকে ৪০ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে ভবনের প্লানের জন্য আবেদন করা যাবে। সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ও খোকন সেনিয়াবাদের আমলে খালপাড়ে কোনো ধরনের প্লান অনুমোদন দেয়া হয়নি। বর্তমান প্রশাসনের সময় কিছু প্লান অনুমোদিত হলেও খালের একেবারে পাড় ঘেঁষে প্লান ছাড়ার নজির নেই।
কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবগ্রাম রোড খালপাড়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য দেলোয়ার হোসেন তার একতলা ভবনের ছাদ ঢালাই সম্পন্ন করেছেন। স্থানীয়রা জানান, প্লানবিহীন ওই নির্মাণকাজের জন্য সিটি কর্পোরেশনের আরআই শাখার প্রধান স্বপন কুমার দাসের কাছে এক লাখ টাকারও বেশি ঘুষ লেনদেন হয়েছে। পরে সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা করে নেন।
একইভাবে নবগ্রাম রোড তালুকদার সড়কের মুখে মো. সাইফুল ইসলামের বহুতল ভবনের একতলার ছাদ দেয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার ভবনের চতুর্থ তলার প্লান অনুমোদিত রয়েছে (প্লান নং ১৬০)। তবে প্লানের নথি দেখতে চাইলে তিনি জানান, সেটি সিটি কর্পোরেশনের প্লান সহকারী লোকমান হোসেনের কাছে রয়েছে।
অন্যদিকে, খালপাড়ে শাকিল মিয়া নামের আরও এক ব্যক্তির ভবনে তৃতীয় তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই করা হলেও সেটি প্লানবিহীন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের মুখে স্বপন কুমার দাস জানান, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। আপনারা যেহেতু বললেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ অপরদিকে প্লান সহকারী লোকমান হোসেন দাবি করেন, ‘২৩নং ওয়ার্ডে সাইফুল ইসলাম নামে কারও প্লান আমার কাছে নেই। আমার নাম ব্যবহার করে যদি কিছু বলা হয়ে থাকে, তবে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখবো। যদি অবৈধভাবে নির্মাণ হয়ে থাকে তবে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব