রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, যা বিশ্বভ্রহ্মাণ্ডের অধিপতি মহান আল্লাহ মানবজাতিকে কল্যাণ ও মুক্তির পথে আহ্বানের জন্য তাঁর সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ করেন। পবিত্র কোরআনই আল্লাহর প্রেরিত চূড়ান্ত ও সর্বশেষ গ্রন্থ। মানবজাতির সব কল্যাণ, সব মঙ্গল ও সব সফলতার উৎস। হাদিসের ভাষ্যমতে, কোরআন দুনিয়ায় যেমন মানুষের পরম বন্ধু, তেমনি পরকালেও বন্ধু হয়ে আল্লাহর দরবারে সুপারিশকারী হবে।
তাই বিশ্ব মুসলিমের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ও ভালোবাসার গ্রন্থ আল্লাহর কালাম সংবলিত মহাগ্রন্থ আল-কোরআন। কোরআনের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের সবচেয়ে উত্কৃষ্ট পদ্ধতি হলো কোরআনে বর্ণিত মহান আল্লাহর নির্দেশনাগুলোর ওপর আমল করা। এর বাইরেও অনেকে অনেকভাবে কোরআনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। অনেকে আল্লাহর পবিত্র কালামের প্রতিটি লাইনকে স্বর্ণে মুড়িয়ে সংরক্ষণ করেছেন।
তেমনি একটি কোরআনের কপি পাওয়া ভারতীয় এক পরিবারের কাছে। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর গলফ নিউজের এক রিপোর্টে দাবি করা হয়, ভারতীয় একটি পরিবার এমন আছে, যারা প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো স্বর্ণমোড়ানো কোরআন পাঠ করার বিরল সৌভাগ্য পায়।
পবিত্র কোরআনের সেই কপিটি বর্তমানে আছে ভারতের এক ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারিসের ঘরে। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সোনায় মোড়ানো পবিত্র কোরআনের বিশেষ পাণ্ডুলিপিটি তাঁর স্ত্রী আয়েশা কাসিম উপহার পেয়েছেন।
২০০৯ সালে তার স্ত্রীর বড় ভাই ইসমাইল বিন কাসিম মালয়েশিয়ায় তাঁদের উপহার হিসেবে ‘গোল্ডেন টুলিং কোরআন’ দেন।
তাদের তথ্যমতে, উপহারটির সঙ্গে আরো বহু নথি ছিল, যেমন—মালয়েশিয়া থেকে পবিত্র কোরআনের এই বিরল পাণ্ডুলিপিটি স্থানান্তরিত করার অনুমতিপত্র, মালিকানার সনদপত্র এবং কোরআনের ইতিহাস। পাণ্ডলিপির সঙ্গে থাকা নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে সোনার হরফে লেখা এই কোরআন ১৬ থেকে ১৮ শতকের মধ্যে প্রস্তুতকৃত।
ধারণা করা হয়, অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনকালে আরবরা এই বিরল কোরআন চীনে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং ১৯৭১ সালে এটি মালয়েশিয়ায় আনা হয়।
হারিস জানিয়েছেন, এই বিরল কোরআনের পাণ্ডুলিপিটি তিলাওয়াত করে তারা ভীষণ প্রশান্তি অনুভব করেন, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে তাঁর স্ত্রী-সন্তানরা এই স্বর্ণমোড়ানো কোরআন তিলাওয়াত করতে আনন্দ পান। সূত্র : গলফ নিউজ
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম