মাসুদ আলম:
সপ্তাহ ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এছাড়া ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। এতে করে বাজারে আসা ক্রেতাদের মধ্যে অনেকটাই স্বস্তি দেখা গেছে। তবে সপ্তাহ ব্যবধানে ডজনে ডিমের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে আলুর দাম। আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস ও মাছ।
শুক্রবার (১৬ মে) রাজধানীর খিলক্ষেত, ভাটারা, রামপুরা, মালিবাগ, উত্তরা ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের অধিকাংশ সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। আবার বাজার ভেদে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা ব্যবধান রয়েছে। প্রকারভেদে বেগুনের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা ও কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বাজারে এখন ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। সোনালি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংসের কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, গরুর কলিজা ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংসের কেজি ১১৫০ থেকে থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
এদিকে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা । যা গত সপ্তাতে ছিলো ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। বাজারে আলু কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজের কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। চায়না আদার কেজি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান রসুন ১৭০ থেকে ২০০ টাকা। এছাড়া চাল আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে নতুন চালের দাম কিছুটা কম।
এদিকে মাছ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। বাজার ভেদে প্রতি কেজি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, টেংরা ৬০০-৭০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, চাষের পাঙাশ মানভেদে ১৭০ থেকে ২২০ টাকা ও তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
ভাটারা নুরেরচালা বাজারের সবজি বিক্রেতা শুভ্র বলেন, সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণেই দাম কমতে শুরু করেছে। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আগামীতে দাম আরও কমবে।
এদিকে পাইকারি ডিম বিক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ করে ডিম ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্ষার এ মৌসুমে অন্যান্য বছর ডিমের দাম আরও বেশি থাকতো। এখন দাম কিছুটা বাড়লে সেটি খামারিদের জন্য ন্যায্য হবে। এ বছর অনেক খামার বন্ধও হয়ে গেছে। ডিমের দাম আরও বাড়তে পারে।
খিলক্ষেত বাজারে বাজার করতে আসা ডলি বেগম বলেন, সবজি ও মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি। অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামতো বেশি। এর মধ্যে ডিম ও আলুর দাম বেড়ে গেছে। প্রতিটা মানুষের জন্য ডিম অপরিহার্য। সরকারের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব