ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষক নিয়োগে প্রভাব খাটানো ও শর্তপূরণ না করিয়েই শিক্ষককে শিক্ষা ছুটির সুপারিশ করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ আছে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের তোপের মুখে পড়ে হল প্রভোস্ট পদ ও বিভাগীয় প্রধান থেকে প্রশাসন তাকে সরিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি আরও আগ্রাসী হয়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকারী একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের নামে মিথ্যা প্রভাগান্ডা ছড়ানো এবং জুলাই আগস্টের প্রগ্রোমে বাধা সৃষ্টি করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী সাদা দলের কর্মকর্তা ও সহকারী রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন বঙ্গবন্ধু নীল দলের শিক্ষক ড. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, তিনি নীল দলের শিক্ষক সমিতির সদস্য ও তৎকালীন সরকারের সময় সাবেক মুক্তিযুদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হোসেনের ছায়া সঙ্গী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক প্রভাব খাটান।
অভিযোগকারী সহকারী রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন এই শিক্ষক আন্দোলনকারী ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীদের নামে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছিলেন এবং আন্দোলনে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেন।’
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ড. জাহিদুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফাইল থেকে ডকুমেন্ট নিতে চাইলে সহকারী রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন বলেন, অফিসিয়াল নিয়ম অনুয়ায়ী ডকুমেন্ট নিতে হবে, তাছাড়া কোন ডকুমেন্ট দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত আরেক শিক্ষকের পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে জটিলতা তৈরি করেন ড. জাহিদ। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেটি পুলিশ সুপারের কাছে প্রেরণ করেন।
সহকারী রেজিস্ট্রার তাঁর লিখিত আবেদনে বলেছেন, ‘আওয়ামী পন্থী শিক্ষক ড. জাহিদুল ইসলাম রেজিস্ট্রার অফিসে এসে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন।’
বঙ্গবন্ধু নীল দলের শিক্ষক ড. জাহিদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিতে যোগদান করার পর অনেকটা চাপে পড়ে আমি বঙ্গবন্ধু নীল দলে যোগদান করি। আমার সাথে বিএনপির সব নেতাদের সম্পর্ক ভালো। কেন্দ্রীয় বিএনপির সাথে আমার কি সম্পর্ক আছে এটা আপনারা খোঁজ-খবর নিয়ে জেনে নিবেন। আর যিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি বিএনপির কেন্দ্র পর্যন্ত যেতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
রিপোর্টার্স২৪/ প্রীতিলতা/এসসি