চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, যুক্তরাজ্য শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সদ্য ঘোষিত এ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্র ও শাখা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. আব্দুল কাইয়ুম। তাকে যুক্তরাজ্য যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
১৬ই মে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এর নির্দেশক্রমে বার্তা প্রেরক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে আফজাল হোসেন সভাপতি এবং বাবর চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কৃতি সন্তান মো. আব্দুল কাইয়ুম শিক্ষাজীবনে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। চবির দাপুটে এই ছাত্রনেতা ফতেপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সচিব থেকে হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সম্পাদক ও পরবর্তীতে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন এবং দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে প্রথম সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সাথে তার পারিবারিক সম্পৃক্ততা থাকায় তিনি কৈশোর থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ও দলীয় মত প্রকাশের জন্য ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার আমলে তিনি বারংবার মামলা হামলার শিকার হয়েছেন এবং কি তাকে হত্যার প্রচেষ্টাও করা হয়েছে। পরবর্তীতে আত্মরক্ষায় তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে এবং সেখানে আন্তর্জাতিক মহল থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করে ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলন কে আরও শক্তিশালী করেন।
কেবল দলীয় দায়িত্বই নয়, তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন যুক্তরাজ্যের সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড গুড গভর্ন্যান্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সহ আরও নানাবিধ দায়িত্বে রয়েছেন।
যুক্তরাজ্য যুবদলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর মোঃ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, যেখানেই থাকি না কেন, আমার হৃদয়ের স্পন্দনে বাংলাদেশ। দলের নেতৃবৃন্দ আমাকে যে আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে দেখেছেন, আমি তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। এটি শুধু একটি পদ নয়, এটি একটি দায়িত্ব, একটি চ্যালেঞ্জ। প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বেগবান করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে প্রবাসী যুব সমাজের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত প্রবাসীদের সংগঠিত করে দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।
পরিশেষে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করার সময় থেকেই আমি জাতির গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে আসছি। বহুবছরের রাজনৈতিক চর্চা, আন্দোলন ও ত্যাগের ফসল হিসেবে আজকের এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্ববান করেছে। দেশ-বিদেশের প্রেক্ষাপটে যুবদলকে সুসংগঠিত ও কার্যকর করার জন্য আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব।
এই মনোনয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের তরুণ নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।