জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রায়সাহেব বাজার মোড়ের বাসস্ট্যান্ডে পরিবহন দখল করে চাঁদা আদায় করার অভিযোগ তুলেছেন আজমেরি ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের মালিকপক্ষ ও বাস চালকরা। আজ ( ৯ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় রায়সাহেব বাজার মোড়ে আজমেরি পরিবহন দখল মুক্ত করতে ও চাঁদা উত্তোলন বন্ধ করতে একযোগ হয়ে অবস্থান নেন বাস মালিকগণ ও চালকরা।
এসময় পরিবহন শ্রমিকরা জানান, জিপি বাবদ প্রতি বাস থেকে দৈনিক ৬০০ টাকা করে নেন গোলাম জিলানী টিপু নামে এক ব্যক্তি ও তার লোকজন। টাকা না দিলে গাড়ি সাইড করে ফেলে রাখা হয়। তারা আরও বলেন, ‘আমাদের নামে মামলা ও মারধর করার হুমকি দেওয়া হয়। এসব ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করা হয়।’
আজমেরি ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড চেয়ারম্যান আমিনুল রহমান লাল মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, ‘আমাদের আজমেরি পরিবহনে বাস আছে ২৬০ টি। এই পরিবহনের মূল চেয়ারম্যান আমি। ৫ আগষ্টের আগে আমাদের বাস মালিক সমিতি দখল করে আওয়ামী লীগের লোকেরা চাঁদা তুলতো। ৫ আগষ্টের পর আমরা আমাদের সমিতি উদ্ধার করলেও সেটি পুনরায় গোলাম জিলানী টিপুসহ কয়েকজন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা দখল করে নেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা প্রতি বাস থেকে দৈনিক ৬০০ টাকা করে মাসে প্রায় ৪০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে। কিন্তু এই টিপু একটি বাসেরও মালিক নয়। সে একজন সন্ত্রাসী। সে কিভাবে পরিবহন মালিক সমিতির হয়ে চাঁদা তুলে? তিনি জানান,এই চাঁদার ভাগ যায় স্থানীয় যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও। তাই টিপু এত সাহস নিয়ে দখল করে চাঁদা আদায় করতে পারে।’
লাল মিয়া আরও বলেন, ‘আজমেরি ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড নামে আমি প্রথম ২০০৩ সালে রুট পারমিট পাই। কিন্তু একবার সেই মালিকানা দখল করে আওয়ামী লীগ এখন দখল করে আছে অন্যরা।’
আজমেরি পরিবহনের চালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের পরিবহনের চেয়ারম্যান লাল মিয়া ভাই। কিন্তু টিপুসহ বেশ কয়েকজন লোক প্রতিদিন আমাদের থেকে টাকা তুলে নিয়ে যায়৷ আমরা টাকা দিতে না চাইলে মারধর করে। পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে দেয়। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, অল্প টাকা দৈনিক আয় হয়। এভাবে প্রতিটা জায়গায় চাঁদা দিলে আমাদের জন্য কিছু থাকেনা। আমরা অসহায় হয়ে টাকা দিতে হচ্ছে।’
আজমেরি পরিবহনের মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘বাস মালিক সমিতির কোনো দায়িত্বে থাকতে হলে সেই ব্যক্তির বাস থাকতে হবে। কিন্তু গোলাম জিলানী টিপুর কোনো বাস না থাকলেও ক্ষমতা দেখিয়ে সে সব কিছু দখল করে রেখেছে। আমাদের চালকদের থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা হয়রানি থেকে মুক্তি চাই।’
জানা যায়, রায়সাহেব বাজার থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী পরিবহনগুলো সড়কের দূরত্ব অনুযায়ী তিন থেকে চার ঘাটে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এসব চাঁদার বিষয়ে ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে নারাজ।
রিপোর্টার্স২৪/ প্রীতিলতা