রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : চাকসু নির্বাচনে ২৬টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৪১৫ জন। প্যানেলের দুই শতাধিক প্রার্থীর বাইরে লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ।সাড়ে তিন দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চাকসু নির্বাচনে এসব স্বতন্ত্র প্রার্থী নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যতিক্রমী প্রচার, লিফলেট তৈরি শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে চাইছেন।
ভিন্ন রাজনৈতিক পরিবেশের এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, গত বছর দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দলীয় রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়েছে। তারা দলের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে থাকবেন, এমন আশা থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতন্ত্রদের জয়ী করবেন।
চাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী আহসান হাবিব, যিনি কবি আহসান হাবিব নামে পরিচিত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের আহসান হাবিবের ‘বাকপটু’ হিসেবেও পরিচিতি আছে ক্যাম্পাসে। নিজের প্রচারপত্র বানিয়েছেন মাটির ব্যাংকের আদলে।
স্বতন্ত্র এ ভিপি প্রার্থী বলেন, “আমি হলে হলে যাচ্ছি; প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, গত বছরের জুলাই আন্দোলনের পর থেকে তারা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে থাকতে চান না।”
আহসান হাবিরের ভাষ্য, ক্যাম্পাসে ‘বিভিন্ন কিছুতে’ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকায় তিনি অনেকের কাছে পরিচিত মুখ। এতে তার প্রচারে সুবিধা হয়েছে। সবার কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।
এদিকে নাট্যকলা বিভাগের ২০২০-’২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিববুর রহমানও লড়ছেন ভিপি পদে। তিনি বলেন, জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, জয়ী হতে না পারলেও তিনি ভবিষ্যতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘অনুপ্রেরণার’ অংশ হবেন। তাকে দেখে অন্যরাও দলের বাইরে থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলার সাহস পাবেন।
“অনেকেই যোগ্যতা থাকার পরও সংগঠনের প্যানেলে গিয়ে নিজের যোগ্যতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী ফুটিয়ে তুলতে পারছেন না। আমি স্বতন্ত্রভাবে লড়ছি, কারণ আমি শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে তাদের পক্ষে থাকতে চাই। আমি আমার ইশতেহার নিয়ে সবার কাছে ছুটে যাচ্ছি। সবার মন জয় করার চেষ্টা করছি। তাই আমি মনে করি শিক্ষার্থীরা আমাকে বেছে নিতে পারে।”
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, চাকসুর ভিপি পদে ২৪ জন, জিএস পদে ২২ এবং এজিএস পদে ২১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
চাকসু নির্বাচনে জিএস পদে লড়ছেন নুর মোহাম্মদ বাপ্পী ও আবদুল্লাহ যায়েদ। দুই জনই ফিন্যান্স বিভাগের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।
তাদের ভাষ্য, তারা গণতন্ত্র চর্চায় বিশ্বাসী। ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলেও তাদের মূল পরিচয়, তারা বন্ধু।নূর মোহাম্মদ বাপ্পী তার প্রচারপত্র তৈরি করেছেন ডলারের আদলে।
তিনি বলেন, দলের ব্যানারে না থেকে স্বতন্ত্র পদে নির্বাচন করায় আমাদের প্রথম বাধা হচ্ছে লোকবল এবং অর্থনৈতিক সংকট।
‘প্যানেলের হয়ে নির্বাচনে থাকলে প্রার্থীর পক্ষে দলের কর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ছুটে যান। কিন্তু আমাদের কোনো লোকবল না থাকায় আমাদের নিজেদেরই ছুটে যেতে হচ্ছে সবার কাছে।’
জিএস পদের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ যায়েদ মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে। তারা দলীয় রাজনীতির বাইরে আসতে চান।
‘জুলাই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাঠে নেমেছিল কোনো দলের হয়ে নয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশা করছে, কোন দলের প্রার্থী যেন না আসে; স্বতন্ত্ররা যেন উঠে আসে। আমি শিক্ষার্থীবান্ধব ইশতেহার তৈরি করেছি। আমার আশা, সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমার পক্ষে থাকবেন।”
চাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী ফয়সাল আহম্মেদ মনে করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজনীতি সচেতন হলেও অনেকেই সামাজিক বাস্তবতায় রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়ছেন।
তিনি বলেন, ‘দলীয় প্যানেলে যারা নির্বাচন করছেন, তাদের জনবল এবং অর্থ আছে। সে হিসাবে পিছিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবুও আমি আশাবাদী। আমি রাজনীতি সচেতন। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে পাশে থাকতেই মূলত নির্বাচন করছি। আমি আমার ইশতেহার নিয়ে ছুটে যাচ্ছি সবার কাছে। আশা করি, দলীয় প্যানেলের বিপরীতে থেকেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের জয়ী করবেন।’
ভিপি, জিএস, এজিএস পদের বাইরে অন্যান্য সম্পাদক পদের স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ব্যতিক্রমী প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। আবার অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী বিভিন্ন জেলা ও এলাকাভিত্তিক সংগঠনের ভোটের ওপর নির্ভর করে প্রার্থী হয়েছেন।
পাঠাগার সম্পাদক পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিব হোসেন দিহান মনে করেন, এলাকাভিত্তিক ভোট তাকে অনেক এগিয়ে নেবে।
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) এ শিক্ষার্থী বলেন, তার নির্বাচনে অন্যতম শক্তি আদিবাসী শিক্ষার্থী এবং এলাকার ভোট।
দিহান বলেন, “আমাদের বিভাগে অনেক আদিবাসী শিক্ষার্থী আছেন। তারা আমাকে সমর্থন করেছেন। তাদের নির্দিষ্ট কিছু ভোট আছে, আবার তাদের কিছু বন্ধুবান্ধব আছে, তারা আমার জন্য ভোট খুঁজছেন।’
এদিকে গানে-নাটকে ব্যতিক্রমী প্রচার চালাতে দেখা গেছে সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে সংগীত বিভাগের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের জাহিদুল ইসলাম জিকু ও সহ-সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে নাট্যকলা বিভাগের উলফাতুর রহমান রাকিবকে।
কোনো প্রচারপত্র তৈরি না করে জিকু তার প্রচার চালাচ্ছেন গানের মাধ্যমে। আর রাকিব গ্রামের প্রবীন মানুষ সেজে নাটক করে করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছেন।
এদিকে স্কেটিং করে প্রচার চালাতে দেখা গেছে সহ সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রার্থী সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তর মণ্ডলকে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি