রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : আবাসিক হলে আধিপত্য, ভোটের কৌশলে এগিয়ে থাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির প্যানেলের মধ্যে মূল লড়াই হতে পারে। ছাত্রদের ৯ হলের ছয়টিতে শিবির, তিনটিতে ছাত্রদলের প্রাধান্য রয়েছে। ছাত্রীদের ছয় হলেও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। ৪০ শতাংশ ছাত্রী ভোটের দিকে চোখ ছাত্রদল ও শিবিরের। এসব ভোট ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।
এদিকে টাকার ছড়াছড়ি, দলের ভালো অবস্থান, বিপুল কর্মী-সমর্থকের কারণে নির্বাচনে ভালো অবস্থানে আছে এই দুই দল। সেদিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে বাকি প্যানেলগুলো।
প্রায় ৩৫ বছর পর আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পুরো ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, রেলস্টেশন, বিভিন্ন অনুষদ, ঝুপড়ি, জিরো পয়েন্ট, চাকসু ভবন, জারুলতলা, ঝুলন্ত সেতুসহ সর্বত্র প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকেই প্রতিটি প্যানেলের প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ, গানবাজনার মাধ্যমে প্রার্থীদের পরিচিতি তুলে ধরার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। এতে বাড়ছে উত্তাপ। ভোটের দিন মাঠে থাকবে বিভিন্ন বাহিনীর এক হাজার ২০০ সদস্য, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে সেনাবাহিনী। বহিরাগত ঠেকাতে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা, ভোটের আগের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে তল্লাশি। রাতের মধ্যে ফল ঘোষণাসহ নানা চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনের। আড়াই শতাধিক সিসি ক্যামরার মাধ্যমে ভোটের সার্বিক বিষয় তদারকি করবে কমিশন। তবে শঙ্কা-উৎকণ্ঠাকে এড়িয়ে উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে সব প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনে ১৫ কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ২৭ হাজার ৫১৬ জন। একজন ভোটার ১৪টি পদে ৪০টি ভোট দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে প্রশাসন আসন বরাদ্দ দিলেও আধিপত্যের কারণে বেশির ভাগ আসন ছাত্রদল ও শিবিরের অনুসারী শিক্ষার্থীদের দখলে চলে গেছে। এর মধ্যে সোহরাওয়ার্দী, আলাওল, এএফ রহমান ও শাহজালাল হলে বেশি আধিপত্য রয়েছে ছাত্রশিবিরের।
শহীদ ফরহাদ হোসেন ও অতীশ দীপঙ্কর হলে প্রভাব রয়েছে ছাত্রদলের। হলগুলোতে থাকা শিক্ষার্থীর ৬০ শতাংশই দুই দলের অনুসারী। বাকি শিক্ষার্থীদের ভোট নিজেদের ব্যালটে নিতে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর আগে থেকেই মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে শিবির। একই কৌশলে মাঠে থাকে ছাত্রদলও। চট্টগ্রাম শহরের হোস্টেল, কটেজ, মেস ও ফ্ল্যাটে থাকা শিক্ষার্থীদের ভোটও নিজেদের ব্যালটে নিতে নানা কৌশলে এগোচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।
নগরের দুই নম্বর গেটে ফ্ল্যাটে থাকা অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ফ্ল্যাটে একসঙ্গে আটজন থাকি। এর মধ্যে দুজন শিবিরের, একজন ছাত্রদল সমর্থক। নিজেদের প্রার্থীদের ভোট দিতে বেশ কিছুদিন ধরেই তারা আমাদের নানাভাবে তাগাদা দিচ্ছেন।
স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের জিএস প্রার্থী রশিদ দিনার বলেন, আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানসহ নানা কৌশলের কারণে ছাত্রদল-শিবির প্রার্থীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এ জন্য তারা অনলাইনে বুস্টিং করতে বিপুল টাকা খরচ করতে পারছে।
সার্বভৌম শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী তাওসীফ আল মুত্তাকী বলেন, নির্বাচনে শিবির ও ছাত্রদল প্রচুর টাকা খরচ করছে। ভোটারদের ম্যানেজ করতে যা প্রয়োজন হচ্ছে তার সবটুকুই করছে তারা।
ছাত্রীদের ৪০ শতাংশ ভোট নিজেদের ব্যালটে আনতে আবাসিক হলে নিজেদের শক্তিশালী কর্মী বাহিনীকে কাজে লাগাচ্ছে ছাত্রদল-শিবির। ছাত্রী ভোট নিশ্চিত করতে ‘আপনি আমাকে দেখলে, আমিও আপনাকে দেখব’ এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এক নারী প্রার্থী বলেন, দুই দলই তাদের দেখার জন্য বারবার বলছে। আমার কর্মী-সমর্থকদের ভোট তাদের ব্যালটে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিলে, তারা আমাকেও দেখবেন বলছেন।’ প্রীতিলতা হলের এক ছাত্রী বলেন, ‘হলে ছাত্রদল ও শিবিরের কিছু নারী এজেন্ট রয়েছে। তাদের কাজ হলো ভোট নিশ্চিত করা।
ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ব্যালট পেপারসহ বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠায় চাকসুতেও এমন ঘটনা ঘটবে কিনা–তা নিয়ে পুরো ক্যাম্পাসেই চলছে আলোচনা। নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, আমাদের নিরাপদ প্রিন্টিং অবকাঠামো রয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে ব্যালট প্রিন্টিং থেকে শুরু করে প্যাকিং ও সিলিং তত্ত্বাবধান করবেন। ডাকসু ও জাকসুতে ব্যালট নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানই কাজ করতে আগ্রহী হয়নি। ভোটের দিন রাত ১১ থেকে ১২টার মধ্যেই ফল ঘোষণা করব আমরা।
এদিকে নির্বাচন কমিশনে এ পর্যন্ত ২৫টি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন, সার্বভৌম শিক্ষার্থী ঐক্যসহ আরও কয়েকটি প্যানেল অভিযোগ করেছে, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা টাকা বিতরণ করছেন।
জিএস প্রার্থী তাসনীম জাহান শ্রাবণ বলেন, নানা চ্যালেঞ্জ জয় করতেই ভোটের মাঠে নেমেছি। অনেকে কৌশলে আমার পাশাপাশি আমার কর্মী-সমর্থকদের ভোট আদায়ের চেষ্টা করছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম