রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার পর বিকেল ৫ টার দিকে শাহবাগ ‘ব্লকেড কর্মসূচি’ ছেড়ে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা পুনরায় শহীদ মিনারে গিয়ে জড়ো হয়েছেন। সেখানে গিয়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে ‘লং-মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা অভিমুখে এই ‘পদযাত্রা’ কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলেছেন, আন্দোলনরত শিক্ষক সংগঠনগুলোর মোর্চা এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।
এর আগে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতে তারা দাবি আদায়ের জন্য আজ বুধবার শাহবাগ অবরোধের ঘোষণা দেন। দুপুর ১২টার মধ্যে বিজ্ঞপ্তি জারির আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পর শহীদ মিনার থেকে শাহবাগের দিকে মিছিল করে যান এবং দুপুর ২টার দিকে পুলিশের বেড়িকেড ভেঙে শাহবাগ অবরোধ করেন। পরে বিকেল ৫টায় তারা পুনরায় শহীদ মিনারে ফিরে যান। সেখানে গিয়ে নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা দেন।
রোববার তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করতে চাইলে পুলিশ জলকামান, লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর সারা দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকরা বিক্ষোভে যোগ দেন এবং পরের দিন থেকে দেশব্যাপী কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ করা, চিকিৎসা ভাতা দেড় হাজার টাকা করা এবং শিক্ষক ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মীদের জন্য উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ করা।
প্রাথমিক স্তরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাসিক সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতন, এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। সম্প্রতি, অর্থ মন্ত্রণালয় বাড়ি ভাড়া ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে। এই বৃদ্ধিকে ‘প্রহসন’ দাবি করে শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বর্তমানে, দেশে ২৬ হাজারের বেশি এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষক ও ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি কর্মচারী রয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে