রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম এবং রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপিকা সামিনা লুৎফা। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি।
সামিনা লুৎফা মনে করেন, রাজনীতিতে অনেক ফ্যাক্টর কাজ করছে এবং একটি বিষয় দিয়ে সব ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
জামায়াত-শিবির কার্যক্রম ইস্যূতে উপস্থাপিকার প্রশ্নে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে শিবিরের নেতাকর্মীদের উপর অনেক দৃশ্যমান নিপিড়ণ হয়েছিলো। কিন্তু বিএনপি এবং ছাত্রদলের উপর তেমনটা দেখা যায়নি। সে সময় ছাত্রদলের ছত্রছায়ায় থেকেও রাজনীতিতে যুক্ত ছিল জামায়াত-শিবির এবং তারা বেশ সক্রিয় ছিল। কিন্তু এখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন হওয়ার ফলে তরুণ সমাজের বড় একটি অংশ মনে করছে এতোদিন অবহেলিত ছিল এখন তারা সেই সুযোগটি পেতে পারে। আর হচ্ছে তেমনটাই। ধীরে ধীরে তাদের কার্যক্রম প্রসারিত হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধি নির্বাচনে তার ফলাফল স্পষ্ট।
এদিকে ৫ লক্ষ ট্রেনিংপ্রাপ্ত নারীকর্মী সক্রিয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে কাজ করবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাদের ভূমিকা কি হবে? এবং রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ প্রশ্নে সামিনা লুৎফা বলেন, নারীরা যখন নারীদের সঙ্গে কথা বলে বা পরিবারের সঙ্গে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে, তখন রাজনৈতিক তথ্য সহজে প্রবাহিত করা যায়। নারীরা যদি পরিবার চালাতে পারে তাহলে রাজনীতিতেও সক্ষম হবে। অন্যান্য রাজনৈতিক নারী সদস্যরা কেন এগিয়ে আসছেন না, তা নিয়ে আমাদের চিন্তা করা দরকার।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, জাতীয় কমিশনার আলোচনায় দেখা গেছে কিছু রাজনৈতিক দল নারীর অংশগ্রহণ কমাতে চাচ্ছে। কেবল ৫% নারীর মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। এটি নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। বাংলাদেশের নারী ভোটাররা এই বিষয়টি মাথায় রাখবেন। আজকের দিনে নারী ভোটাররা মোট ভোটারের অর্ধেকের বেশি, যা নির্বাচনে গুরুত্পূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে