রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : রাকসু নির্বাচনে নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী সালাহ উদ্দীন আম্মার। রাবিতে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটে’র ব্যাপক প্রভাব সত্ত্বেও আম্মারের ভূমিধ্বস বিজয় পুরো ক্যাম্পাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শুধু তাই নয়, সিনেটে ৫টি ছাত্র প্রতিনিধি পদে সর্বাধিক ১২ হাজার ৮৩৩ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন সালাহ উদ্দীন আম্মার।
ঘোষিত ফলাফল অনুসারে, ‘সালাহ উদ্দীন আম্মার পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৭ ভোট। প্রায় ৫ হাজার ৮শ’ ভোটের ব্যবধানে আম্মারে বিজয়, অনেকের চোখে অপ্রত্যাশিত, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩টি পদের মধ্যে ২০টি পদেই বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিতরা। কিন্তু জিএস পদে ছাত্রশিবির আম্মারের কাছে বিপুল ব্যবধানে হেরেছেন।’
জানা গেছে, সালাহউদ্দিন আম্মার রাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। খুলনার এই তরুণ ঢাকার মাদ্রাসায় পড়লেও রাবির রাজনীতিতে ইতোমধ্যে সকলের পরিচিত মুখ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়েই তার নেতৃত্বগুণ ও সাহসী অবস্থান শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেই আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম সমন্বয়ক, সহপাঠীদের মাঝে পরিচিত ‘শ্লোগান মাস্টার’ হিসেবে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাবি’র অন্যতম সংগঠক ও সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।
জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে আম্মারের ক্যাম্পাসে রাজনীতি শুরু। এর আগে তিনি চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তবে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তার রাজনৈতিক চেতনা বিকশিত হয়। ক্যাম্পাসে তিনি ছিলেন প্যালেস্টাইন সংহতি কর্মসূচি, মানবাধিকার, ও প্রশাসনিক সংস্কারসহ নানা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সরব। পরে তিনি একটি চাকরিতে যোগ দেন, তবে জুলাই আন্দোলনের সময় চাকরি ছেড়ে রাজপথে নামেন। এরপর থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন।সূত্র জানায়,‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এই সাবেক সমন্বয়ক আম্মারকে সহপাঠীরা দেখেছেন একজন নির্ভীক কণ্ঠস্বর। লিঁয়াজো বা তোষণ রাজনীতির বাইরে থেকে তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলেন এবং সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থানে অটল। অনেকের চোখে তিনি ‘সোজাসাপ্টা’, সাধারণ শিক্ষার্থীদের চোখে তিনি অসীম সাহসের প্রতীক। যা তিনি প্রমাণ করেছেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর পুনর্বহালকৃত পোষ্যকোটা’র বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনের প্যারিস রোডে হাজির করার মাধ্যমে। মূলত: ঐ রাতেই রাকসু’র ভবিষ্যত নেতা হিসেবে আম্মার নিজেকে প্রমাণ করেছেন বলে ওয়াকিবহাল শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপে জানা গেছে।
সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি হলেন যারা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে নির্বাচিত তিনজন প্রতিনিধির দুইজন ছাত্রশিবিরের এবং আরেকজন সাবেক সমন্বয়ক। শুক্রবার (১৭ই অক্টোবর) দুপুরে রাকসু নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা যায়।
কমিশনের তথ্যানুসারে, সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধির ৫টি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটে’র চারজন এবং সাবেক সমন্বয়ক সালাহ উদ্দীন আম্মার নির্বাচিত হয়েছেন।
রাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ৯ হাজার ৪৬৭ ভোটে; এজিএস এসএম সালমান সাব্বির ৪ হাজার ৬৯০ ভোটে; জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ১২ হাজার ৮৩৩ ভোটে; ফজলে রাব্বী মোঃ ফাহিম রেজা ৮ হাজার ২০৫ ভোটে এবং আকিল বিন তালেব ৫ হাজার ৭০৭ ভোটে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করার। শিক্ষার্থীরা আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে অনেক খুশি। যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
সূত্র:ইত্তেফাক
রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ