জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর সদর উপজেলার জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তিতপল্লা আদর্শ বটতলা এলাকা অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) গেইট সংলগ্ন এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছ ৫ জনে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুসহ আরও তিনজন।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সর্বশেষ মারা যান ইজিবাইকের চালক জাহাঙ্গীর আলম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম।
এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় কাভার্ডভ্যানের চাপায় একটি ইজিবাইক দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে নিয়ত হয় রাশেদ নামে এক যুবক।
পরে পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের নারায়নপুর এলাকার ময়েজ উদ্দিনের ছেলে চাঁন মিয়া, সরিষাবাড়ি উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের সানাকুর এলাকার হায়দার আলীর ছেলে রাশেদ মিয়া ও একই ইউনিয়নের উচ্চগ্রাম এলাকার শরিফ আহাম্মেদের স্ত্রী আরিফা খাতুন পলিসহ অজ্ঞাত এক নারী যাত্রী।
আহতরা হলেন-সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের নারায়নপুর এলাকার চানু মিয়ার স্ত্রী সন্ধ্যা বেগম (৫০), দিগপাইত এলাকার বাদশা মিয়ার মেয়ে ফারজানা বেগম (২২) ও সরিষাবাড়ি উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের উচ্চগ্রামের শরিফ আহাম্মেদের ছেলে আরশ (৫)।
আহত শিশু আরশ নিহত আরিফা খাতুন পলির ছেলে বলে জানা গেছে এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামালপুর থেকে দিগপাইত গামী একটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো -ট ১২-৩৪৭৬) অর্থনৈতিক অঞ্চলের সামনে আসলে অপর দিক থেকে আসা জামালপুরগামী একটি ইজিবাইককের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা । এতে ঘটনাস্থনলেই মারা যান রাশেদ মিয়া। পরে আহতদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান, হাসপাতালে আনার পর চাঁন মিয়া ও আরিফা খাতুন পলিকে মৃত ঘোষণা করেন জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একজন অজ্ঞাত নারী।
বাকিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইজিবাইকের চালক জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, ঘটনার পরপরই কাভার্ড ভ্যানটিকে আটক করে স্থানীয়রা। তবে পালিয়ে যায় ভ্যানটির চালক ও হেলপার। আর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে