নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ত্রাস চাঁন মিয়া ওরফে চান্দা ডাকাত (৩৮) অবশেষে র্যাবের হাতে ধরা পড়েছে। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের সদস্যরা সোমবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আল-আমিন বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
মঙ্গলবার(২৮ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এ সময় চান্দা ডাকাতের হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার চান্দা ডাকাত সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর আলাউদ্দিন গ্রামের আব্দুল বাতেনের ছেলে এবং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারের ভাই।
র্যাব জানায়, ‘দীর্ঘদিন ধরে চান্দা ডাকাত এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে জুলুম, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের মাধ্যমে সে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।’
স্থানীয়রা জানান, ‘৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চান্দা ডাকাত আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের খামার থেকে গরু-মহিষ লুট, মাছ ও ধান দখল, এমনকি চাঁদাবাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় সে ও তার বাহিনী। ওই সময় পুলিশও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভয় পেত বলে অভিযোগ রয়েছে।’
এ ইউনিয়নে চান্দা ডাকাত বাহিনী, ফারুক বাহিনী ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ তোতলা বাহিনীর কার্যক্রমে অশান্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় জনপদ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘চান্দা ও ফারুক বাহিনী মূলত খামার ও প্রজেক্ট থেকে গরু, মহিষ ও মাছ লুট করে বিক্রি করত। অন্যদিকে তোতলা বাহিনী চট্টগ্রামের সন্দ্বীপসংলগ্ন কোম্পানীগঞ্জের উড়িরচর থেকে নদীপথে মাদক এনে সুবর্ণচর ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করত।’
মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘চান্দা ডাকাত ও ফারুক মাঝির লোকজন চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরীর খামার থেকে ২০টি মহিষ, ২৬টি গরু এবং কোটি টাকার মাছ ও ধান লুট করেছে। অস্ত্রের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেনি।’
র্যাব হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত চান্দা ডাকাতের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই যুবদল নেতা মো. দিদার বলেন, ‘আমার ভাই নির্দোষ। তাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ফাঁসানো হয়েছে। এলাকায় কোনো বাহিনী নেই।’
র্যাব কর্মকর্তা মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, ‘চান্দা ডাকাতের বিরুদ্ধে চরজব্বর ও হাতিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। উদ্ধারকরা অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
রিপোর্টার্স২৪/প্রীতিলতা