বরিশাল প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন ধরেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মেডিকেল সেন্টারে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। সীমিত পরিমাণে ওষুধের মধ্যে থাকে ‘নাপা’, ‘এইচ+’ ও ‘প্যান্টোজল’। তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের মাত্র এক শতাংশ, যাতে মাথাপিছু বরাদ্দ দাঁড়ায় ৭০ টাকার কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেট প্রায় ৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেতন ও ভাতার জন্য বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা, এবং বাকি ১৪ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। মেডিকেল সেন্টারের বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৮ লাখ টাকা, যা প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য যথেষ্ট নয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতি বছর তাদের কাছ থেকে মেডিকেল সেবা বাবদ ৭০০ টাকা নেওয়া হয়। তবে এই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে না।
মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র চিকিৎসক ডা. শাম্মী আরা নিপা জানান,“আমাদের মেডিকেল সেন্টারের নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে আরও কার্যকর সেবা প্রদান সম্ভব হবে।”
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিলা জামান সেঁজুতি বলেন, শিক্ষার্থী প্রতি বরাদ্দ যদি মাত্র ৭০ টাকা হয়, তাহলে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের সচেতন না হলে এই অব্যবস্থা চলতেই থাকবে।”
ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান বলেন, ৭০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা সীমিত ওষুধের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট নয়।”
উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে জানানো হয়, সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব নয়। এর জন্য আগে প্রক্টরের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন