সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ৯ গ্রামের মানুষ। ইতোমধ্যে গ্রামের কয়েক শতাধিক ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে স্থানীয় ধীতপুর হাট-বাজারসহ ফসলি মাঠ।
ভাঙনের শিকার গ্রামগুলো হচ্ছে- উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের বারপাখিয়া,লোহিন্দাকান্দি,মাকড়া, ধীতপুর, শ্রীপুর, কুরসি। গালা ইউনিয়নের মোহনপুর,বৃহাতকোড়া। স্থানীয়রা জানান,বর্ষা মৌসুমের প্রথম থেকে উন্মত্ত যমুনার ভাঙনে এলাকার দুটি মাদ্রাসা,কবরস্থান,মসজিদ,কয়েক শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। ধীতপুর-কুরসি গ্রামের দুটি হাট-বাজারের অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীপাড়ের ভাঙন কবলিতরা বলছেন, গত মাসে যেখানে বাড়িঘর ছিল, এখন সেখানে অথৈ পানি। কোনভাবেই তারা ভাঙন প্রতিরোধ করতে পারছেন না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েকদিনের মধ্য যমুনায় বিলীন হবে আরো অনেক এলাকা।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৮৮ সাল থেকে এসব এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়। দফায় দফায় ঘরবাড়ি ভাঙনের কারণে অনেকের ১৫/১৬ বার বসত-বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। এভাবে ভাঙনে কারণে নিজেদের জমি-জমা হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন তারা। এখন আর তাদের যাবার কোন জায়গা নেই। বাধ্য হযে নদীপাড়ে অন্যর জমিতে অস্থায়ী ঘর তুলে বসবাস অনেক পরিবারের। এসব এলাকার মানুষ দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নদী ভাঙনের কথা স্বীকার করে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওখানে নদী ভাঙন চলছে। ইতোমধ্যে গ্রামগুলোর কয়েক’শ হেক্টর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে এখানকার বাসিন্দারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা নানাভাবে তাদের সহায়তা দিচ্ছি।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান,ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির নিরুপন করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। গ্রামগুলোর ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবার অনুরোধ করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স ২৪/জয়