শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে এএ ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৯৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৩ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাতে উপজেলার ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সীমান্তবর্তী জৈনা বাজার এলাকার নগরহাওলা গ্রামে অবস্থিত এএ ইয়ার্ন মিলস কারখানায়। এ ঘটনায় শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে কারখানার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক আবুল কালাম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বকেয়া বেতনের দাবিতে ওইদিন শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা কারখানার ভিতরে ঢুকে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে প্রতিষ্ঠানের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের উত্তেজিত বিক্ষোভে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং ৯৮ কোটি টাকার মেশিনারিজ ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়। পাশাপাশি ৪০ লাখ টাকার কাঁচামাল ও প্রস্তুত মালামাল লুটে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত শ্রমিকরা পুনরায় বকেয়া বেতনের দাবিতে কারখানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তবে পাওনা পরিশোধের পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ ৩০ অক্টোবর কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। পরদিন সকালে শ্রমিকরা বন্ধের নোটিশ দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়কে আবর্জনা ফেলে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে।
কারখানার মানবসম্পদ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, “শ্রমিকদের পাওনা বেতন ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কারণে তারা বিক্ষোভে নেমে কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। নতুন যন্ত্রপাতি না আসা পর্যন্ত কারখানা পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়।”
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারিক বলেন, “কারখানার পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।”
রিপোর্টার্স২৪/আরকে