রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ভারতের আসামের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যু এখনো রহস্যে ঘেরা। সিঙ্গাপুর ও আসাম—দুই জায়গাতেই তদন্ত চলমান। এরই মধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, তিনি এই মৃত্যুকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে দেখছেন না, বরং এটি তার ভাষায় একটি হত্যাকাণ্ড।
সোমবার (৪ নভেম্বর) আসামের রাজধানী দিসপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জুবিন গার্গের মৃত্যু কোনোভাবেই দুর্ঘটনা নয়। এটি হত্যাকাণ্ড। আমরা ডিসেম্বরের ১৭ তারিখের আগেই মামলার চার্জশিট জমা দিতে চাই।
তিনি আরও জানান, বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) ইতোমধ্যে তদন্তের শেষ পর্যায়ে আছে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
বিদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তদন্তের জন্য হোম মিনিস্ট্রির অনুমতি লাগে। আমি ইতোমধ্যে অমিত শাহজীকে বিষয়টি জানিয়েছি, যেন দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হয়, বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ইতোমধ্যে এই মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এর মধ্যে আছেন জুবিনের ম্যানেজার, সিঙ্গাপুর উৎসবের আয়োজক, তার দুই ব্যান্ড সদস্য এবং চাচাতো ভাই। এছাড়া তার দুই নিরাপত্তারক্ষীকেও দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাত্র ৫২ বছর বয়সে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে মারা যান জুবিন গার্গ। ‘নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল’-এর সাংস্কৃতিক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। উৎসবের আগের দিন তিনি ইয়ট ভ্রমণে গিয়ে সাঁতার কাটার সময় অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
যদিও সিঙ্গাপুর পুলিশ জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক তদন্তে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলেনি, তবে তদন্ত শেষ হতে আরও দুই মাস লাগতে পারে।
প্রয়াত এই কিংবদন্তি গায়ক হিন্দি, বাংলা ও অসমীয়াসহ বহু ভাষায় অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। তার গাওয়া বলিউডের ‘ইয়া আলী’(গ্যাংস্টার), বাংলা চলচ্চিত্রের ‘চোখের জলে’(পরাণ যায় জ্বলিয়া রে) ও ‘পিয়া রে’(চিরদিনই তুমি যে আমার) গানগুলো তাকে অমর করে রেখেছে শ্রোতাদের হৃদয়ে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম