স্টাফ রিপোর্টার : অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন, হয়রানি বন্ধ, মামলা প্রত্যাহারসহ ৭ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকাল ৭টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে ৭ দফা দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় বুধবার (২১ মে) থেকে শহীদ মিনারে কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে ‘চুক্তি না মুক্তি, মুক্তি মুক্তি’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘আমাদের দাবি আমাদের দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’, ‘চুক্তি থেকে মুক্তি চাই, নিয়মিত চাকরি চাই’- ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
তারা জানান, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনের মাধ্যমে আধুনিক ও টেকসই বিতরণ ব্যবস্থা বিনির্মাণ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিতে গত বছরের জানুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু হয় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে।
তারা আরও বলেন, আমরা গত ১৬ মে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকারের সহযোগিতা কামনা করলেও ইতিবাচক কোনো সাড়া মেলেনি। এমতাবস্থায় ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন পদের কর্মীদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে ৭ দফা দাবিতে বুধবার (২১ মে) থেকে সারাদেশে বিদ্যুৎ সেবা চালু রেখে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালন করে আসছি।
৭ দফা দাবি হলো-
১. পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের ফ্যাসিবাদি কায়দায় দমন-পীড়নের মাধ্যমে কর্মপরিবেশ অস্থিতিশীলকারী, অত্যাচারী আরইবি চেয়ারম্যানের অপসারণ।
২. ‘এক ও অভিন্ন চাকুরিবিধি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরইবি-পবিস একীভূতকরণ’ অথবা দেশের অন্য বিতরণ সংস্থার ন্যায় পুনর্গঠন।
৩. মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার, লাইন শ্রমিক এবং পৌষ্য কর্মীদের চাকরি নিয়মিতকরণ।
৪. মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারপূর্বক চাকরিচ্যুতদের স্বপদে পুনর্বহাল।
৫. গ্রাহক সেবার স্বার্থে লাইনক্রুসহ সকল হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলি আদেশ বাতিল এবং বরখাস্ত ও সংযুক্ত কর্মীদের অবিলম্বে পদায়ন।
৬. জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা বা শিফটিং ডিউটি বাস্তবায়নের জন্য অতিদ্রুত জনবলের ঘাটতি পূরণ করতে হবে।
৭. পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত অর্ন্তর্বতীকালীন বোর্ড গঠন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত করতে হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আহ্বান জানান, ‘দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ১৪ কোটি ভুক্তভোগী পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মানসম্মত বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করণ এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার নির্যাতিত কর্মীর মুক্তির জন্য সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষকমন্ডলী, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমকর্মীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিবিএ) সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী মনির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো. হাসানুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক মো. মইনুল ইসলাম ও কার্যকরী সদস্য গোলাম মোস্তফাসহ অনেকে।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ