নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আছে প্রকৃতির আশ্চর্য সৃষ্টি, ১৩ মাথাওয়ালা নারকেল গাছ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন এক ঝাঁক গাছ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। তবে কাছে গেলে বোঝা যায় এটি আসলে একক কাণ্ড থেকে জন্ম নেওয়া ১৩টি মাথাওয়ালা একটি গাছ। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিতি পেয়েছে ‘কুদরতি নিদর্শন’ হিসেবে।
বিরল এই গাছটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের গ্রামের মানুষ। এমনকি দূরদূরান্ত থেকেও আসছেন কৌতূহলী দর্শনার্থীরা। কেউ গাছটির মাথা গুনছেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এই বিস্ময়ের গল্প।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাছটির এক সময় ১৪টি মাথা ছিল; বর্তমানে ১৩টি মাথা সবুজ ও সতেজ রয়েছে। প্রতিটি মাথায় ঘন পাতার বিন্যাস এমনভাবে ছড়ানো যে দেখে মনে হয় প্রকৃতি নিজেই যেন এক শিল্পকর্ম এঁকেছে।
কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক নজরুল ইসলাম বলেন, “গাছটির বয়স প্রায় ২৫–২৬ বছর। লাগানোর কয়েক বছর পরই গাছটির কাণ্ডে একাধিক মাথা গজাতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাথার সংখ্যা বেড়েছে, আবার কিছু শুকিয়ে গেছে। বর্তমানে ১৩টি মাথা টিকে আছে। কলেজের পক্ষ থেকে নিয়মিত সার ও ওষুধ দিয়ে পরিচর্যা করা হয়। আমার জীবনে এমন গাছ আর দেখিনি। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে এই গাছ দেখতে এবং বিস্মিত হয়। এটি নিঃসন্দেহে প্রকৃতির এক অনন্য রূপ।”
স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন, “একটি নারকেল গাছের এতগুলো মাথা থাকা বিরল ঘটনা, এরকম গাছ অন্য কোথাও নেই। এটি আল্লাহর ‘কুদরতি নিদর্শন’।”
গাছটি দেখতে আসা পাবনার চাটমোহর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকার মকবুল হোসেন (৬০) বলেন, “সকালে পার্শ্ববর্তী চাচকৈড় বাজারে একটি কাজে এসেছিলাম। শুনেছি এখানে একটি বহুমাথার নারকেল গাছ আছে। পরে গাছটি দেখতে এখানে আসি এবং দেখি এর ১৪টি মাথা। আরও অনেক দর্শক এটি দেখতে আসছে। এটি ‘আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন’ ছাড়া কিছুই নয়।”
এলাকাবাসীর দাবি, এই বিরল নারকেল গাছটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করলে এটি স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। এতে একদিকে যেমন বাড়বে এলাকার পরিচিতি, তেমনি দর্শনার্থীরা প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন।
গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে. এম. রাফিউল ইসলাম বলেন, “একটি নারকেল গাছের ১৩–১৪টি মাথা বের হওয়া সাধারণ ঘটনা নয়। এটি জেনেটিক কারণে হয়েছে। গাছটির কারণে গুরুদাসপুর এলাকা দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এর সঠিক পরিচর্যা ও সার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নেবে। গাছটির সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এটি যেন ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য আরও দর্শনীয় হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে কৃষি অফিস সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন