রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : টানা দুই বছরের ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত গাজার অন্তত ২ লাখ ৮২ হাজারের বেশি বাড়িঘর পুরোপুরি ধ্বংস কিংবা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়ি-বাড়ি ধ্বংসযজ্ঞের এই প্রকোপে শীত নামার আগেই লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বাধ্য হয়েছেন তাঁবুকে একমাত্র আশ্রয় বানাতে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) প্রকাশিত আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেল্টার ক্লাস্টার নামে একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্ল্যাটফর্ম থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণে ইউএনআরডব্লিউএ এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। সংস্থাটি জানায়, ইউএনআরডব্লিউএ, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।
ইউএনআরডব্লিউএর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, শীতের আগে থেকেই লাখো পরিবার অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাঁবুর ভেতর দিন কাটাচ্ছে। গাদাগাদি অবস্থায় থাকা এসব মানুষের জন্য ব্যক্তিগত গোপনীয়তা তো দূরের কথা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা মৌলিক যেকোনো প্রয়োজনই এখন সংগ্রামের নামান্তর।
প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর থেকে হামাস ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। প্রতিদিনই ইসরায়েলের টানা হামলা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের নজির তৈরি করছে। এতে একদিকে যেমন শত শত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারাচ্ছেন, অন্যদিকে গাজার ভেতরে খাবার, ওষুধ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৯ হাজার, যাদের বড় অংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ৭০ হাজার ৭০০–এর বেশি মানুষ। দীর্ঘ এই ধ্বংসযজ্ঞে গাজা আজ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম