ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার পারফলসি মাদ্রাসার সুপার ইয়ারুল হকের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে মামলা করেছেন মাদ্রাসার সাবেক সভাপতির ছেলে কনক মণ্ডল।
মাদ্রাসার প্রয়াত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সুপারের স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ উঠলে কনক মণ্ডল মাদ্রাসার সুপার ইয়ারুল হকের বিরুদ্ধে রেজুলেশন, নিয়োগপত্র ও তার পিতা খলিলুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ এনে এই মামলা করেন।
মামলার পর ঝিনাইদহ সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেন আদালত। এছাড়া সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা সুপারকে রেজুলেশন ও নিয়োগপত্রসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু তিন বছর পার হলেও ইয়ারুল হক মামলা তদন্তে কোনো সহায়তা করেননি। উপরন্তু ঝিনাইদহ সিআইডি যতবার মাদ্রাসায় গেছেন, ততবারই সুপার ইয়ারুল হকসহ বাকি শিক্ষকরা পালিয়ে গেছেন।
ঝিনাইদহ সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আব্দুর রহিম জানান, মাদ্রাসা সুপার মামলা তদন্তে কোনো সহায়তা ও কাগজপত্র জমা দিচ্ছেন না। তিনি এ পর্যন্ত চারবার সময় নিয়েছেন। তার এই সময় নেওয়া ও নিয়োগসংক্রান্ত কাগজ জমা না দেওয়ার পেছনে কোনো দুর্বিসন্ধি থাকতে পারে।
গ্রামবাসী আতিয়ার রহমান জানান, ২০০১ সালে হরিণাকুন্ডু উপজেলার পারফলসি গ্রামে তারা একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২২ সালের ৬ জুলাই মাদ্রাসাটি রাতারাতি এমপিওভুক্ত হলে ইয়ারুল হক হঠাৎ আবির্ভূত হন সুপার হিসেবে। এরপর তিনি দাবি করে বসেন, প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খলিলুর রহমান তাদের নিয়োগ দিয়ে গেছেন। কিন্তু তার এই দাবি অসত্য এবং জাল–জোচ্চুরিতে ভরপুর।
মাদ্রাসার দপ্তরি মনজের আলী জানান, ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই ১০ বছর বর্তমান সুপার ইয়ারুল হক মাদ্রাসায় ছিলেন না। এমপিওভুক্ত হওয়ার পর তিনি রাতারাতি উড়ে এসে জুড়ে বসেন।
মামলার বাদী কনক মণ্ডল জানান, সুপার ইয়ারুল দাবি করেন তিনি ভারপ্রাপ্ত সুপার ইয়াসমিন সুলতানার স্বাক্ষরে নিয়োগপ্রাপ্ত। কিন্তু ইয়াসমিন সুলতানা সিআইডির কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তিনি ইয়ারুলসহ কাউকেই নিয়োগ দেননি।
ঝিনাইদহ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান জানান, মামলাটি তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। দ্রুত এই মামলার প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন