রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পলাতক ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া যথাযথ ও স্বচ্ছ হয়েছে। তিনি আরও জানান, যদি শেখ হাসিনা খালাস পান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে খুশি হতেন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমির হোসেন বলেন, আমি সবসময় চাই আমার মক্কেল খালাস পাক। এটি স্বাভাবিক। প্রত্যেক আইনজীবী চাইবে তার মক্কেল ন্যায় পাবে। আমি আশা করি, ট্রাইব্যুনালের রায় সঠিক ও ন্যায্য হবে।
শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কোনো যোগাযোগের চেষ্টা করিনি। উনিও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আইনগতভাবে এমন কোনো বিধানও নেই। তবে যদি কোনো সহায়তা হত, তা আমার জন্য আরও ভালো হতো।
তিনি ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে ভালো ও স্বচ্ছ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিষয়ে তিনি বলেন, “উনি আমার মক্কেল নন। আমার কাজ কেবল আমার মক্কেলের পক্ষে। অন্যের পক্ষে আমি বক্তব্য দিই না।
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আরও যোগ করেন, প্রসিকিউটর যা বলছে, তারা বলবেনই। আমার বক্তব্য আলাদা। বিচারিক প্যানেল তার বিবেচনা করবেন। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
রায়ের দিনকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে আছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে রোববার সন্ধ্যার পর দোয়েল চত্বর থেকে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয় ১৩ নভেম্বর। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করবেন। বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মানবতাবিরোধী অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, নির্বাচিত হত্যাকাণ্ড, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে।
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন, শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল উভয়েই খালাস পাবেন। রাজসাক্ষী আল-মামুনের রায় ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
রিপোর্টার্স২৪ / ঝুম