রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চট্টগ্রামের লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে চুক্তি সই করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস। সোমবার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং এপিএম টার্মিনালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টেইন ভ্যান ডোঙ্গেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে নৌ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, পিপিপি কর্তৃপক্ষ ও বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বিষয়ক স্টেট সেক্রেটারি লিনা গেন্ডলস হেনসেন এবং ঢাকায় নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান ব্রিক্স মুলার উপস্থিত ছিলেন।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, এই চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জাতির জন্য একটি বড় অবদান। যাদের মধ্যে সংশয় ছিল, আশা করি আজ তা দূর হবে।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, লালদিয়া দেখিয়েছে পিপিপি শুধু তত্ত্ব নয়, বাস্তবেও কার্যকর। ভবিষ্যতেও আমরা বাস্তবায়নকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নেই মনোযোগ দেব।
এপি মোলার–মেয়ার্স্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান রবার্ট মেয়ার্স্ক উগলা বলেন, লালদিয়া হবে ইউরোপের একটি দেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি একক সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ। আধুনিক নিরাপত্তা, অটোমেশন ও টেকসই কাঠামোর সমন্বয়ে গড়ে উঠবে গ্রিনফিল্ড টার্মিনালটি, যা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও লজিস্টিকস খাতকে আরও এগিয়ে নেবে।
চুক্তি সইয়ের পর বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ডেনিশ প্রতিনিধি দল। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি নতুন যুগের সূচনা। এই বন্দর বড় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বিনিয়োগ ও প্রকল্প কাঠামো
বিডার তথ্য অনুযায়ী, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল একটি পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্প। সম্পূর্ণ বিনিয়োগ করবে এপিএম টার্মিনালস।
‘সাইনিং মানি’ হিসেবে ২৫০ কোটি টাকা। নির্মাণসহ মোট প্রায় ৬,৭০০ কোটি টাকা। সরকার কোনো অর্থায়ন বা গ্যারান্টি দেবে না।
চুক্তির মূল শর্ত:
# নির্মাণ শেষে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি, শর্ত পূরণে নবায়নযোগ্য
# প্রতি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সরকার নির্ধারিত ফি পাবে
# ভলিউম বেশি হলে সরকারের আয় বাড়বে
# হ্যান্ডলিং সাময়িক বন্ধ থাকলেও সরকার ন্যূনতম অর্থ পাবে
# নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ
বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক জানান,বন্দর নির্মাণ হলে বছরে ৮ লাখ TEU অতিরিক্ত ধারণক্ষমতা বাড়বে, যা বর্তমান সক্ষমতার প্রায় ৪৪% বেশি
*পণ্য পরিবহনের ইউনিট খরচ কমবে
*দ্বিগুণ বড় কনটেইনার জাহাজ ভিড়তে পারবে
* নির্মাণ ও পরিচালনায় ৫০০–৭০০ সরাসরি এবং হাজারের বেশি পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে
* এপিএম টার্মিনালসের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপকরা বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করবেন
এপিএম টার্মিনালস হলো এপি মোলার–মেয়ার্স্ক গ্রুপের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের শীর্ষ ২০ বন্দরের মধ্যে ১০টি পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ৩৩ দেশে ৬০টির বেশি টার্মিনাল পরিচালনায় রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি