রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ক্যান্সার এমন এক নীরব ঘাতক, যা প্রতিরোধে সচেতন জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রতিদিনের অনেক অভ্যাসই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় অন্যদিকে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনধারায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন অভ্যাসগুলো অনুসরণ করলে শরীর থাকবে আরও নিরাপদ।
রোদ থেকে ভিটামিন ডি গ্রহণ
সকালে জানালায় আলো ঢুকতে দিলে যেমন মন ভালো থাকে, তেমনি শরীরও পায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি—যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করে। সূর্যের আলো ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়ক বলে গবেষকদের দাবি। তবে প্রতিদিন রোদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ না থাকলে চর্বিযুক্ত মাছ, ডিম অথবা ভিটামিন ডি–সমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্ট দিয়ে ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে।
নিয়মিত রোজা বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং
মাঝেমধ্যে রোজা রাখলে শরীরে অটোফ্যাজি নামের একটি প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। যা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ভেঙে নতুন স্বাস্থ্যকর কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই প্রক্রিয়াটি শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে মাইটোকন্ড্রিয়ার ত্রুটি সংশোধনে।
অতিরিক্ত কার্ব কমিয়ে দিন
ক্যান্সার কোষ সাধারণত গ্লুকোজে টিকে থাকে। তাই উচ্চ–কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার কমালে কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার কোষ বেড়ে ওঠার সুযোগ কমে। অনেকেই কিটো ডায়েট অনুসরণ করে শরীরকে চর্বি ব্যবহারে অভ্যস্ত করে। যা ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং কোষের জন্য কম অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
ঠান্ডা পানিতে গোসলের উপকারিতা
ঠান্ডা পানি হয়তো আরামদায়ক নয়, কিন্তু এটি শরীরকে স্বল্প মাত্রার চাপ দেয়, যা কোষকে আরও শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঠান্ডা পানি মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারে, ফলে কোষ মিউটেশনের ঝুঁকি কিছুটা কমে।
নিয়মিত শরীরচর্চা
প্রতিদিন ১০ মিনিট হাঁটাও ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, কোষে অক্সিজেন সরবরাহ উন্নত করে এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যা টিউমার বৃদ্ধির অনুকূল নয়। হাঁটা, দৌড়, সাইক্লিংসযেকোনো ধরনের শরীরচর্চাই শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললে ক্যান্সারের পাশাপাশি আরও অনেক দীর্ঘমেয়াদি রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম