রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দক্ষিণ লেবাননের একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটেছে। মঙ্গলবারের এই হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় চিকিৎসকরা।
একইদিন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি শিশুসহ আল জাজিরার এক সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পশ্চিম তীরজুড়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গাড়িচাপা ও ছুরিকাঘাতে একজন নিহত এবং তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক সীমান্ত হামলার পর থেকে অঞ্চলে সহিংসতার মাত্রা লাগাতার বেড়েই চলেছে। সে সময় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন এবং প্রায় ২০০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর শুরু হয় ইসরায়েলের বিধ্বংসী সামরিক অভিযান।
দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৯ হাজার ৪৮৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ৭০৬ জন আহত হয়েছেন—যা আধুনিক ইতিহাসের ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয়গুলোর অন্যতম বলে চিহ্নিত হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস–এর নতুন প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই বছরের কম সময়ে ইসরায়েলি কারাগারে কমপক্ষে ৯৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এসব মৃত্যু ‘পদ্ধতিগত নির্যাতন, চিকিৎসা-সেবা অস্বীকার ও গোপন করার প্রচেষ্টার’ ফল হতে পারে।
তাদের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, আগের দশ বছরে ইসরায়েলি হেফাজতে প্রায় ৩০ জন ফিলিস্তিনি মারা যান—যা বর্তমান মৃত্যুহারের তুলনায় তিন গুণেরও কম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা এবং চিকিৎসা না দেওয়ার প্রবণতা বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইসরায়েলি প্রিজন সার্ভিসের দাবি—তারা আইন মেনেই বন্দিদের পরিচালনা করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
৭ অক্টোবরের ঘটনার পর থেকে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েল। তাদের অনেককে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক রেড ক্রসকে বন্দিদের তথ্য দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; আটক কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে—যা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম