রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের যে রায় দেওয়া হয়েছিল, তাকে ‘কলঙ্কিত ও একাধিক ত্রুটিতে ত্রুটিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে সর্বসম্মত এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস. এম. ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
রায়ে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের অতীতের রায় নথিপত্র পর্যালোচনায় স্পষ্টতই ত্রুটিপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হওয়ায় তা সম্পূর্ণ বাতিল করা হলো। এর ফলে সংবিধানের চতুর্থ ভাগের পরিচ্ছেদ ২(ক)-এ থাকা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানাবলী পুনরুজ্জীবিত হলো এবং কার্যকর হলো।
তবে এই পুনঃস্থাপন সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচনে প্রযোজ্য হচ্ছে না। রায়ের ভাষ্যমতে, পুনরুজ্জীবিত অনুচ্ছেদ ৫৮(খ)(১) ও ৫৮(গ)(২)-এর প্রয়োগ সাপেক্ষে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে।
আইনজীবী শিশির মনির রায়ের ব্যাখ্যায় বলেন, রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে ফিরেছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। চতুর্দশ জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পুনর্বহাল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রয়োগ হবে। সংসদ ভেঙে দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে বলে তিনি জানান।
গত ১১ নভেম্বর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আপিল শুনানি শেষ হয়। পরে রায় ঘোষণার জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। আজকের রায়কে দেশটির সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি