আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যতম প্রাচীন ইংরেজি দৈনিক সংবাদ সংস্থা কাশ্মীর টাইমস-এর কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানের আগে সংস্থাটির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে তারা দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত এবং দেশের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
সাংবাদিক বেদ ভাসিন প্রতিষ্ঠিত কাশ্মীর টাইমস বর্তমানে জম্মু থেকে তাদের মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশ বন্ধ রেখেছে এবং প্রধানত অনলাইনে কাজ করে।বেদ ভাসিনের মৃত্যুর পর তাঁর কন্যা অনুরাধা ভাসিন এবং তাঁর স্বামী প্রবোধ জামওয়াল সংবাদপত্রের দায়িত্ব নেন। যদিও তাঁরা দুজনেই বেশ কয়েক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তাদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রবোধ জামওয়াল সম্পাদক এবং অনুরাধা ভাসিন ম্যানেজিং এডিটর হিসেবে তালিকাভুক্ত।
সরকারি সূত্র অনুসারে, এফআইআর-এ কথিত কার্যকলাপ এবং যোগাযোগগুলির উল্লেখ রয়েছে, যা ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তদন্তের অধীনে রয়েছে। অভিযানটি সকাল ৬টার দিকে শুরু হয় এবং এসআইএ কর্মকর্তারা সংবাদপত্রের ম্যানেজার সঞ্জীব কেরনিকে তাঁর বাড়ি থেকে অফিসে ডেকে পাঠান।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংস্থাটি সম্ভবত অনুরাধা ভাসিনকে জেরা করবে। কর্মকর্তারা আরও জানান, এই অভিযানটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যান বা বেআইনি প্রচারণায় সহায়তাকারী নেটওয়ার্কগুলির বিরুদ্ধে সংস্থার চলমান পদক্ষেপের একটি অংশ। এসআইএ দৃঢ়ভাবে বলছে যে কোনো প্ল্যাটফর্ম তা মিডিয়া হোক বা অন্য কিছু রাষ্ট্রদ্রোহী বা দেশবিরোধী বিষয়বস্তু প্রচারে ব্যবহৃত হতে পারে না।
কাশ্মীর টাইমসের সম্পাদক প্রবোধ জামওয়াল এবং অনুরাধা ভাসিন এই অভিযানকে ‘আমাদের মুখ বন্ধ করার আরও একটি প্রচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেন, ‘‘আমাদের অফিসে এই অভিযান, 'রাষ্ট্রের প্রতি প্রতিকূল' কার্যকলাপের ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং কাশ্মীর টাইমসের ওপর সমন্বিত আক্রমণ আমাদের নীরব করে দেওয়ার আরেকটি চেষ্টা। সরকারের সমালোচনা করা আর রাষ্ট্রের প্রতি প্রতিকূল হওয়া এক জিনিস নয়। আসলে, এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য একটি শক্তিশালী, প্রশ্নকারী সংবাদপত্র অপরিহার্য। আমাদের কাজ ক্ষমতাকে জবাবদিহি করানো, দুর্নীতি তদন্ত করা এবং প্রান্তিক কণ্ঠস্বরগুলোকে তুলে ধরা ; এত করে আমাদের দেশকে দুর্বল করে না, বরং শক্তিশালী করে।
১৯৫৪ সাল থেকে কাশ্মীর টাইমস স্বাধীন সাংবাদিকতার একটি স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা এই অঞ্চলের সাফল্য ও ব্যর্থতা সমান কঠোরতার সাথে তুলে ধরেছি। আমরা এমন সম্প্রদায়গুলোকে কণ্ঠস্বর দিয়েছি, যাদের কথা অন্যথায় শোনা যেত না। যখন অন্যরা নীরব থেকেছে, আমরা তখন কঠিন প্রশ্ন তুলেছি। আমরা যেহেতু এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, ঠিক সেই কারণেই আমরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছি। এমন সময়ে যখন সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বর ক্রমশ বিরল, তখনও আমরা কিছু স্বাধীন আউটলেটের মধ্যে রয়েছি যারা সাহসের সাথে সত্য কথা বলে।"
রিপোর্টার্স২৪/এসসি