রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের মৎস্য শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করতে এখনই প্রয়োজন যথাযথ প্রস্তুতি, মানসম্মত উৎপাদন ও শক্ত নীতিমাল এমন মন্তব্য করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, সরকার মৎস্য রপ্তানিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারীজ অনুষদ, রাজশাহী বাণিজ্যিক মৎস্য চাষী সমবায় সমিতি ও রাবির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মৎস্য সামিট ও মেলাতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন,রাজশাহীর চাষীরা বাংলাদেশের মৎস্য ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা জীবিত রুই জাতের মাছ এখন আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানিযোগ্য। তাই সময় এসেছে কাঠামোগত প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও রপ্তানি নীতিমালা নির্ধারণের। সরকার এ ক্ষেত্রে পূর্ণ সহযোগিতা দেবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাবি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, এই সামিট দেশের স্বাদুপানির মাছ রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ জানান, এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
সামিটের সভাপতি ও রাবির ফিশারীজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মন্ডল বলেন, একাডেমি ও ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম যা রপ্তানি খাতে যুগান্তকারী এক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সামিটে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাবির ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক আখতার হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম, ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এসকে কামরুল আলম, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদসহ দেশ-বিদেশের গবেষক, উদ্যোক্তা, আমদানিকারক ও নীতিনির্ধারকেরা।
এবারের সামিটে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছিল। ২৫টি প্রতিষ্ঠান ফিড, অ্যাকুয়া মেডিসিন, যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করে। আলোচনায় রাজশাহী অঞ্চলের মৎস্য উৎপাদন, গুণগতমান রক্ষা, আন্তর্জাতিক বাজার সংযোগ এবং রপ্তানিবান্ধব পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সামিট শেষে একটি সুপারিশমালা সরকারকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
একসময় রুই জাতের বড় মাছ আমদানিনির্ভর ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ২০১৩-১৪ সালে রাজশাহীর পারিলা ও পবা এলাকার চাষীরা প্রথমবারের মতো ৫–৬ কেজি ওজনের বড় রুই উৎপাদন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। এরপর এসব মাছ জীবিত অবস্থায় (লাইভ ফিশ) দেশের বাজারে সরবরাহ শুরু হয়।
বর্তমানে শুধু রাজশাহী অঞ্চল থেকেই প্রতিদিন গড়ে ৩০০টি ট্রাক জীবিত মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। গুণগতমানের কারণে এসব মাছ এখন বিদেশে রপ্তানিরও বাস্তব সুযোগ তৈরি করেছে।
বিদেশে কার্প জাতীয় মাছ রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ চিংড়ির পাশাপাশি চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডের মতো দেশের বাজারে নতুন করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে, যা রপ্তানি খাতে বড় পরিবর্তন আনবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম