রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনের নির্বাচনী প্রচার ও ইশতেহারের কৌশল চূড়ান্ত করেছে। দলের সূত্র জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল বিষয়গুলো দেশব্যাপী সাতটি ভেন্যুতে পোস্টার আকারে প্রচার করা হবে। বিষয়ভিত্তিক পোস্টারে নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যুব, সংখ্যালঘু ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হবে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার পুস্তক আকারে থাকলেও সাধারণ মানুষ তা পড়তে পারে না। তাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে পোস্টার ও সারসংক্ষেপ আকারে জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে।
সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি-এর নির্বাচনী ইশতেহার গঠিত হবে দলের ঘোষিত ৩১ দফা, জুলাই সনদ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নির্দেশনার সমন্বয়ে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোট, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকার রক্ষা ও দুর্নীতি দমন কাঠামো শক্তিশালীকরণ।
ইশতেহারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ প্রতিশ্রুতি থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে কওমি মাদ্রাসা ও ইসলামিক গবেষণার উন্নয়ন, সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি সুরক্ষা, উৎসবে রাষ্ট্রীয় সহায়তা, যুব সমাজের জন্য এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান, স্টার্টআপ ফান্ড, আইটি প্রশিক্ষণ, বিদেশে শ্রমবাজার প্রসারণ এবং মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স গঠন।
কৃষক, নারী ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্যও বিশেষ উদ্যোগ রাখা হয়েছে। কৃষি উপকরণের দাম কমানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষিঋণ সহজ করা, ধান-চাল ক্রয়ের স্বচ্ছ ব্যবস্থা, নারীর নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ, নারী উদ্যোক্তা তহবিল, মাতৃত্বকালীন ভাতা বৃদ্ধি ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল চালু করার অঙ্গীকার থাকবে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিও জোরদার করা হবে।
দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। শনিবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সভায় এসব কৌশল চূড়ান্ত করা হয়। সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা অংশ নেন।