এস এম ফয়েজ: রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো যে এখানকার বাসিন্দাদের জীবন কতটা ঠুনকো। চোখের নিমেষে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে শত শত মানুষের দীর্ঘদিনের তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন। শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচে এখন শুধুই আর্তনাদ আর হাহাকার।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও চ্যালেঞ্জ
ফায়ার সার্ভিস তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে তদন্ত চলছে। বস্তির ভেতরের সরু রাস্তা এবং পানির স্বল্পতার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো আগুন নেভানোর কাজ শুরু করতে কিছুটা বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়েছে।
দখলের জন্য পরিকল্পিত আগুন?
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই আগুন কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। তাদের দাবি, বস্তির মূল্যবান জমি দখল করার অসৎ উদ্দেশ্যেই একটি চক্র সুকৌশলে আগুন লাগিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। বারবার এই একই ঘটনা ঘটছে। যখনই মনে হয় জীবনটা একটু গুছিয়ে নিচ্ছি, তখনই আগুনে সব শেষ হয়ে যায়। এটা স্রেফ দুর্ঘটনা নয়, আমাদের উচ্ছেদ করার জন্য আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা জানি কারা এর পেছনে জড়িত। বস্তি ছাড়ার জন্য আমাদের অনেকদিন ধরেই চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আমরা গরিব বলে আমাদের জীবনের কোনো মূল্য নেই? প্রশাসনকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
বস্তিবাসীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বস্তি ছাড়ার জন্য তাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এই অগ্নিকাণ্ড সেই চাপেরই অংশ। এই মূল্যবান জমির ওপর অনেকেরই লোলুপ দৃষ্টি রয়েছে।
বারবার একই স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, এই আগুন কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের দ্বারা পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ।
সহায় সম্বলহীন মানুষের জিজ্ঞাসা
অগ্নিকাণ্ডে ঘর, আসবাবপত্র, নগদ টাকা, সার্টিফিকেট, সব হারিয়েছেন বাসিন্দারা। যারা প্রতিদিনের উপার্জনে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের জন্য এই ক্ষতি অপূরণীয়। খোলা আকাশের নিচে বসে থাকা মানুষগুলোর চোখেমুখে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ছাপ। তাদের একটাই প্রশ্ন, আমাদের পুনর্বাসনের কী হবে? এই পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞের বিচার কি আমরা পাবো না?
ক্ষতিগ্রস্তরা এখন ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দিকে তাকিয়ে আছেন। শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ এবং এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র থাকে, তবে তার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কড়াইল বস্তির ভুক্তভোগীরা।
লেখক: এস এম ফয়েজ
সিনিয়র সাংবাদিক