রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নভেম্বরের শেষভাগেই তীব্র ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে জমে আসছে মানুষের চলাফেরা। ভোরের কুয়াশা আর রাতের অতিরিক্ত আর্দ্রতা শীতের দাপটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এভাবে ঠান্ডা তো সাধারণত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি আসে এ বছর যেন শীত আগেভাগেই দরজায় কড়া নাড়ছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এর আগের দিন মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর তারও আগের দিন সোমবার ছিল ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েক দিন ধরে এমন ওঠানামা শীতের প্রভাবকে আরও তীব্রভাবে অনুভব করাচ্ছে এলাকাবাসীর কাছে।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দারুণ ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।ময়দানদিঘীর ব্যবসায়ী মখলেছার রহমান জানান, ভোরে দোকান খুলতেই হাত-পা জমে যায়। ঠান্ডা বাতাসে দাঁড়ানোই কষ্ট লেখাপড়া থেকে বাজার করা, সবকিছুতেই লোকজন দেরিতে বের হয়।
চাকলাহাটের কলেজছাত্রী ইশরাত জাহান বলেন, সকালে কলেজে যেতে খুবই কষ্ট হয়। রাস্তা দিয়ে হাঁটলেই মনে হয় বরফের বাতাস শরীর ভেদ করে ঢুকছে। আমাদের এলাকায় শীতটা একটু বেশি। রিকশাচালক দেলোয়ার হোসেনও একই ভোগান্তির কথা জানালেন। ভোরে যাত্রী মেলে না। ঠান্ডায় কেউ ঘর থেকে বের হয় না। কিন্তু কাজতো বন্ধ রাখা যায় না। তাই গায়ে মোটা কাপড় জড়িয়ে রিকশা চালাই।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, শীত ক্রমে স্থায়ী হচ্ছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ঠান্ডা আরও জোরালো হতে পারে, এমনকি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে। উত্তরের দরজা বলা হয় যে তেঁতুলিয়াকে সেখানেই যখন শীতের এমন আগাম আগমন, তখন ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে দেশের উত্তরাঞ্চলে কঠিন শীতের ইঙ্গিত মিলছে স্পষ্টভাবেই।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম