রিপোর্টা্র্স২৪ডেস্ক: কবি, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ৫ আগস্ট আমরা যেকোনো ফ্যাসিস্ট শক্তিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে সক্ষম হয়েছি; কিন্তু সমাজ থেকে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুরোপুরি নির্মূল করা এখনো সম্ভব হয়নি। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে নতুন রূপে সেক্যুলার ফ্যাসিজমের বিপরীতে “ধর্মীয় ফ্যাসিজম” উত্থার পাচ্ছে। ধর্মের আড়ালে অপরের অধিকার হরণ, হত্যা, অত্যাচার ও নিপীড়ন করা হচ্ছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজন করা প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিচারগান যা আয়োজন করেছিল সাধুগুরু ও ওলি-আউলিয়া আশেকান পরিষদ ও ভাববৈঠকী সেখানে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন, ধর্মীয় ফ্যাসিজমের এমন ফর্ম ভয়ঙ্কর, যারা দাবি করেন, তাদের ধর্মের ব্যাখ্যাই সবাইকে মেনে নিতে হবে। কিন্তু ৫ আগস্টের পরিণতি আপনারা খেয়াল করুন।
ফরহাদ মজহার বলেন, সম্প্রতি বাউল শিল্পী আবুল সরকার সহ বাউল সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনা তারই অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকজন স্বেচ্ছাশাসনপন্থী গোষ্ঠী, ধর্মকে ভোটের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এমন কার্যকলাপ বন্ধ না হলে, একই ফ্যাসিস্ট চক্র পরবর্তী নির্বাচনের আগেই আবার মাথা উঁচিয়ে দাঁড়াবে।
আবুল সরকারের স্ত্রীর অভিযোগ, বাউল সম্প্রদায় যারা গান-বাজনা, মাজার, সুফি ঐতিহ্য পছন্দ করে না, তারা এখন তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করছে। শুধু বিচার নয় কিছু গোষ্ঠী প্রকাশ্যে স্লোগান দিচ্ছে, একটা একটা বাউল ধর, ধরে ধরে জবাই কর। এমন অন্ধ সন্ত্রাস যারা ছড়াচ্ছে, তারা রাষ্ট্রবিরোধী এবং সাংস্কৃতিক শৃঙ্খলাকে ভেঙে দিতে চায়।
মজহার আরও বলেছেন, পাবলিক পিটিশন, মামলা-আদালত নয় বরং যেকোনো সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় কারণে মানুষের বিশ্বাস, চিন্তা ও গান-কবিতাকে দমন করার প্রতিবাদ করতে হবে। কারণ, ধর্মীয় ফ্যাসিজম যা মানুষকে একদম মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে শুধু বাউলদের নয়, পুরো সমাজকে ভয়ানক দিকে নিয়ে যেতে পারে।
রিপোর্টা্র্স২৪/বাবি