জন্ম: ৯ নভেম্বর, ১৯৭০ খ্রি: ভালুকা, ময়মনসিংহ । শৈশবেই লেখালেখির হাতেখড়ি। '৯০ দশকের গোড়া থেকে নিয়মিত। কবিতা ও ছড়া লেখেন । মাঝেমধ্যে অনুবাদও করেন । দু'বাংলার পত্রপত্রিকায় তাঁর কবিতা ও ছড়া সমানভাবে চোখে পড়ে । তিনি ভারত থেকে পেয়েছেন ‘আমাদের কফিহাউস সম্মাননা’ এবং ‘দীনবন্ধু আচার্য স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার-১৪২৯ । প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ৫টি । যথা: ১.জলাশয়ে দগ্ধ দিন, ২.কালে বেড়ে ওঠা ৩.বৃষ্টি-নর্তকীর দল ৪.যে পিছনে বর্ণমালা খেলে ৫.নিশিত নিষিদ্ধ।
পৌনে অন্ধ
কোথাও হারিয়ে ফেলেছি মনের রাঙা বাড়িঘর;
এমনকি, নিজ পরিচয়।
সেই দুঃখে বাবা ঝুলে পড়ে দুশ্চিন্তার ধনু-বাঁকা সেতুর রেলিঙয়ে,
ভাই পা হারায় টিনে কেটে,
বোনটা বধির হয় বাঁশের কঞ্চির ঘাই খেয়ে,
মা এসব কষ্টের দহনে কেঁদে কেঁদে পৌনে অন্ধ।
প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়তে লড়তে আমিও সায়াহ্নে,
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস পেঁচিয়ে ধরছে
বায়ুদূষণের অক্টোপাসে।
ছিঁড়ে যেতে থাকা সংসারে বা প্রত্যাশায়
দিতে জোড়াতালি
বিপদে অনেকে অনেকের পিঠে হাত রাখে বা পাশে দাঁড়ায়,
ডুবতে থাকা জীবনকে পাইয়ে দেয় কূল;
কিন্তু অভাগারা যে দিকেই হাত দেয় পুড়ে যায়,
পায়ে পড়ে নোংরা-পিচ্ছিলতা
বা অন্ধকারের এক অথই অর্ণব।
এভাবেই নিত্যদিন যুক্ত হতে থাকে দুঃখিত মায়ের সংখ্যা।
ভাবনাগুলো
ইদানীং অনেকের ভাবনাগুলো অনেক বিষাক্ত।
স্বার্থের সামান্য বিপক্ষে গেলেই সাপ হয়ে ফুঁস করে ওঠে;
অসময় মনে হলে পড়ে থাকে অনড়, নিঃশব্দে।
নাগালে বুঝলেই মাথা উঁচু করে বসায় বিষদাঁত।
এই হালে আমাদের মাঝে থাকা চাই
বেজির চৈতন্যবোধ।
একাধিকবার সবলে ঝাঁপিয়ে পড়ে মারতে হবে
ওদের মনের অবাধ্য অবস্থাগুলো।
তাহলেই ঘরে ঘরে বাড়বে কবুতর উড়াউড়ি।
সবার চরিত্র থেকে
অষ্টপ্রহরের তালিকায়
যত বাজে গুণ বা অভ্যাস
সকালেই সেগুলোকে বিতাড়িত করো
ঝাড়ু-ঝাঁটা মেরে।
পারলে ধুয়ে ফেলো অনুশোচনার সোডা-সাবানেও।
যেমন, পরের ধনে দৃষ্টি,
কর্মক্ষেত্রে বা লেনদেনে দু'নম্বরি,
টেবিল পেলেই ঘৃণাবোধ উসকে দেয়া,
বাহুবল দেখিয়ে অন্যকে
নাক ও চোখের জলে একাকার করা,
ঘোলাদিনে নির্বাকের সর্বস্ব শিকার,
হাতে পাঁচ আছে বলে
নিজেকে আকাশ ছোঁয়া ভাবা ...
লোকালয়ে বাড়তে থাকা
এইসব আবর্জনা, নগ্ন নষ্টামি বা অহঙ্কার
আণবিক শক্তির চেয়েও কোনো অংশে কম নয়,
বরং দু'ডিগ্রি ওপরে বা ভয়ঙ্কর।
আগামীকালের সূর্য ওঠার আগেই
সবার চরিত্র থেকে
এসব নিষ্ক্রিয় হওয়া সময়ের দাবি।