শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে স্থানীয় কৃষকদের পণ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও বিপণন সহজ করতে জাইকা ও এলজিইডির যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এগ্রো বিজনেস সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে। ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) এর আওতায় ২৯ নভেম্বর শনিবার নলকুড়া রাবারড্যাম এলাকায় এ সেন্টার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর তোমোহিদি ইচিগুচি।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে জাইকা। তারই অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে উপকৃত হবেন স্থানীয় কৃষক, বিশেষ করে নারী কৃষকরা।
অনুষ্ঠানে জাইকার সিনিয়র প্রতিনিধি সোজি ইজোমি, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. সানিউল হক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দা আসমা খাতুন, শেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ জাইকা ও এলজিইডির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অংশ নেন মহারশি রাবারড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রশীদসহ স্থানীয় সুবিধাভোগীরাও।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মহারশি ফ্ল্যাগশিপ ডেভেলপমেন্টের আওতায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এগ্রো বিজনেস সেন্টারের পাশাপাশি পৃথক তিনটি উপ-প্রকল্পে নির্মাণ করা হয়েছে শস্যগুদাম, চাতাল, কৃষিযন্ত্রের ওয়ার্কশপ, ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র, কৃষি ব্যবস্থাপনা অফিস, তিনটি পাম্প হাউজ, হেডার ট্যাংক, সাড়ে ৭ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ সেচ পাইপলাইন, সাড়ে ৩ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, আড়াই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও একটি বক্স কালভার্ট। এসব প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৯ লাখ টাকা।
এতে ১ হাজার ৯৩ হেক্টর জমি সেচের আওতায় এসেছে এবং উপকৃত হচ্ছেন দেড় হাজারের বেশি কৃষক। এর আগে মহারশি নদীতে রাবারড্যাম, ফুটওভার ব্রিজ ও সমিতি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল আরও প্রায় ৯ কোটি টাকা।
প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্যে বিক্রি নিশ্চিত হবে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি