রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেট আসনের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দুর্নীতির মামলায় অনুপস্থিতিতেই দুই বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন বাংলাদেশের একটি আদালত। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি তাঁর খালা ও বাংলাদেশের অপসারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে পরিবারের সদস্যদের জন্য রাজধানীর উপকণ্ঠে মূল্যবান জমি আদায় করেছিলেন।
সোমবার আদালতের রায়ে বলা হয়, সিদ্দিক তাঁর ‘বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাব’ ব্যবহার করে হাসিনাকে পরিবারের সদস্যদের পক্ষে জমি বরাদ্দ দিতে বাধ্য করেছিলেন। মামলায় তাঁর মা শেখ রেহানাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আরও একাধিক পরিবারের সদস্যের নাম রয়েছে মামলাটিতে।
টিউলিপ সিদ্দিক, শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা কিংবা অন্য অভিযুক্ত কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় তাঁর সাজা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
এ ঘটনায়, লেবার পার্টি এক বিবৃতিতে জানায়, সিদ্দিককে সুষ্ঠু আইনগত সুযোগ না দেওয়ায় তাঁরা এই রায়কে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না। সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মামলার বেশির ভাগ প্রমাণই জাল। তাঁর দাবি, তাঁকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বিচার করা হলেও শৈশবের পর তিনি আর বাংলাদেশি পাসপোর্ট রাখেননি এবং দেশে করও দেননি।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, সিদ্দিক ঢাকায় এসে এবং হাসিনার দপ্তরের কর্মকর্তাদের কল ও বার্তা পাঠিয়ে জমি বরাদ্দের চেষ্টা করেন। তবে এসব যোগাযোগের কোনো সরাসরি প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি; দুই সাক্ষীর বর্ণনার ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করা হয়।
রায় ঘোষণার পর সিদ্দিক ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক। এই কথিত রায় সে রকমই অবজ্ঞার যোগ্য।
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের কয়েকজন শীর্ষ আইনজীবীও জানিয়েছিলেন, সিদ্দিকের বিচার ‘অযৌক্তিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। আদালতে তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগেরও সুযোগ ছিল না; এমনকি সিদ্দিকের পক্ষ নেওয়ার চেষ্টা করা এক আইনজীবী অভিযোগ করেন, তাঁকে হুমকি দিয়ে গৃহবন্দী রাখা হয়।
টিউলিপ সিদ্দিক দাবি করেন, এই মামলা তাঁর খালা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণের অংশ। ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। হাসিনা সরকারের সময়ে সংঘটিত দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার দ্রুত করার দাবি উঠেছিল জনমনে।
গত মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে। গত সপ্তাহে আরেক মামলায় তাঁকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ এসব বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে হাসিনা ভারতেই অবস্থান করছেন; তাঁকে বাংলাদেশে ফেরাতে পাঠানো অনুরোধে এখনো সাড়া মেলেনি।
বিভিন্ন সময়ে টিউলিপ সিদ্দিককে শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকায় দেখা গেলেও তিনি দাবি করেন, সব সফরই ছিল পারিবারিক। চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাসিনা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ব্যবহারের অভিযোগে তিনি ট্রেজারি মন্ত্রীর পদ ছাড়েন। তদন্তে নিয়ম ভঙ্গের প্রমাণ না মিললেও প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।
রায় ঘোষণার পর লেবার পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার সুযোগ না দেওয়ায় তাঁরা এই রায়কে স্বীকৃতি দিতে পারেন না। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও সিদ্দিককে বিস্তারিত জানানো হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি