চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পদ্মা নদীর চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের শেষ সীমানা ঘেষে চর মোজাফ্ফরপুর মৌজার ছোনেরটেক নামক পদ্মার চরে গড়া ৩০০ শত বিঘার বিশাল কলাবাগানের প্রায় ১০ হাজার কলাগাছ ধ্বংস করেছে প্রতিবেশী দুর্বৃত্তরা।
ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিক আলাউদ্দিন ফকির অভিযোগ করেছেন, দুর্বৃত্তরা শত্রুতা করার উদ্দেশ্যে দিনের পর দিন বাগানের মধ্যে গরু-ছাগলের পাল চড়িয়ে এবং রাতের আধারে কলাগাছ কেটে রেখে বাগানটির ক্ষতি করেছে। উক্ত কলাবাগানের পাশের বসতি—শেখ আঃ মান্নান (৫০), রহিম হাওলাদার (৫৫), মোহন বেপারী (৬০), ফারুক কাজী (৪৫) ও সিরাজ কাজী (৫০) এদের নেতৃত্বে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গত কয়েকদিনে প্রায় ১০ হাজার কলাগাছ ধ্বংস করেছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা নদীর ছোনেরটেক নামক চরটি একটু উঁচু হওয়ায় সবরি কলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তাই তিনজন অংশীদার মিলে প্রায় ১০০ একর জমির উপর বাগানটি গড়েছিলেন। ওই বাগানের মালিকরা হলেন—আলাউদ্দিন ফকির (৫০), মোহাম্মদ ফকির (৪৮) ও মান্নান মুন্সি (৬০)। বাগান মালিকরা পার্শ্ববর্তী দোহার উপজেলা ও চরভদ্রাসন উপজেলার বসতি। তারা মজুর খাটিয়ে ও লোক রেখে বাগানটি গড়েছেন। এ কলাবাগানে মোট প্রায় ৮০ হাজার সবরি কলাগাছ রয়েছে।
বাগান মালিক আলাউদ্দিন ফকির জানান, প্রায় দু’বছর ধরে তিনি পদ্মার চরে কলাচাষ করে আসছেন। এ বছর বাগান আরও বাড়িয়ে ১০০ একর জমি নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। পদ্মার চরে বিশাল এ কলাবাগান গড়তে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন বাগানে প্রায় ২০–২৫ মজুর কাজ করে। কলাবাগানে সেচের জন্য ইঞ্জিন চালিত ১৫টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। বাগানে প্রতিনিয়ত সার, কীটনাশক ও ভিটামিন ঔষধ সরবরাহ করতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এই বাগানের উৎপাদিত সবরি কলা পাইকারী ব্যবসায়ীরা রাজধানী ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেন।
বাগান মালিক আরও জানান, পদ্মা চরের এ কলাবাগানের আশেপাশে রয়েছে ১২০ ঘর কৃষক পরিবার। এসব বসতিদের মধ্যে দুর্বৃত্তরা দিনের বেলায় বাগানের মধ্যে গরু-ছাগল ঢুকিয়ে এবং রাতের আধারে কলাগাছ কেটে পাকা কলার ছড়া চুরি করছে। একই জমিতে তিন দফায় কলাগাছ রোপণ করা হলেও দুর্বৃত্তরা তিনবারই তা ধ্বংস করেছে। বাগান সীমানায় স্থাপিত লোহার বেড়া ভেঙে ১০ হাজার কলাগাছ বিনষ্ট করেছে। তিনি জানান, এ ব্যাপারে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাগান ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকার কলাবাগানের কিছু অংশে হাজার হাজার কলার চারা মরা বা আধামরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আরেক অংশে দেখা যায়, প্রতিবেশীদের গরু-ছাগল বাগানে ঢুকে কলাগাছগুলো বিনষ্ট করছে। স্থানীয়রা দেখেও না দেখার ভান করছেন।
রবিবার এলাকায় বসতি এবং চরঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার রহিম হাওলাদারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, “বিশাল এলাকা জুড়ে এই কলাবাগান গড়া হয়েছে। এলাকাবাসী জনচলাচলের জন্য বাগানের মধ্যে দিয়ে মালিকের কাছে ১৬ হাত চওড়া পথ চেয়েছিল। কিন্তু বাগান মালিক মাত্র ৯ হাত চওড়া রাস্তা দিয়েছেন। এজন্য চরের লোকজন ক্ষেপে রয়েছে।”
ওই এলাকার আরেক মাতুব্বর কালাম চৌকদার (৫৫) জানায়, “আমি বাগানের ক্ষতি না করার জন্য এলাকাবাসীর কাছে বারবার অনুরোধ করেছি। এমনকি বাগানে গরু-ছাগল ঢুকলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘোষণা দিয়েছি। কিন্তু আদেশের কথা কেউ শোনে না।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন