আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি: ভারত আর আমেরিকার মধ্যে একটা বড় বাণিজ্য চুক্তি হতে দেরি হচ্ছে। এর ফলে বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ভারতীয় টাকা (রুপি) দুর্বল হতে হতে মার্কিন ডলারের তুলনায় রেকর্ড ভেঙে ৯০-টাকাতে নেমে এসেছে। এর আগে মঙ্গলবার যা ছিল ৮৯.৯৪৭৫, সেই রেকর্ডকেও এটি ভেঙে দিয়েছে।
বুধবার ভারতীয় টাকার মূল্য এক ডলারের বিপরীতে ৯০.২০-টাকায় দাঁড়িয়েছে। সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ভারতীয় টাকা নাকি ২০২৫ সালের সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করা বিদেশি মুদ্রাগুলোর মধ্যে একটা হবে।এই ব্যাপক পতনের কারণ কী? বিশ্লেষকদের মতে, ভারত আর আমেরিকার মধ্যে সেই বাণিজ্য চুক্তি ঝুলে থাকার কারণেই টাকার এই দুর্বলতা দেখা দিয়েছে।
এইচডিএফসি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক দিলীপ পারমার সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, টাকা পড়ার প্রধান কারণ হলো 'চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ভারসাম্য না থাকা'। এর সঙ্গে বিদেশ থেকে টাকা বেরিয়ে যাওয়া এবং বাণিজ্য চুক্তির অনিশ্চয়তা সমস্যা আরও বাড়িয়েছে। বিশ্লেষক আরও যোগ করেন যে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-এর পক্ষ থেকে সক্রিয়ভাবে ডলার বিক্রি করে হস্তক্ষেপ না করাটা একটা বড় কারণ।
সংবাদ সংস্থাটি বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বছর মাঝে মাঝে ডলার বিক্রি করে টাকাকে কিছুটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তারা এখন টাকাকে বেশি স্বাধীনতা দিচ্ছে।
স্যামকো সিকিউরিটিজের গবেষণা বিশ্লেষক রাজ গাইকারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যেহেতু জিনিসপত্রের দাম (মুদ্রাস্ফীতি) এখন যতটা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে কম, তাই আরবিআই আর টাকার একটা 'কৃত্রিম দাম' ধরে রাখার জন্য ডলার খরচ না করে, দেশের অর্থনীতিকে বাড়ানোর দিকে বেশি নজর দিচ্ছে।
সিঙ্গাপুরে এইচএসবিসি-র এশিয়া এফএক্স গবেষণার প্রধান জোয়ি চিউ সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন যে বাণিজ্য চুক্তির বিলম্বই টাকার দুর্বল হওয়ার প্রধান কারণ। চিউ বলেন, প্রতিটি দিন যখন আমাদের কাছে বাণিজ্য চুক্তি থাকছে না, তখন বাণিজ্য ঘাটতি এবং বিদেশ থেকে ডলারের চাহিদা বাড়ছে, ফলে ডলারের দাম বাড়ছে। কিন্তু ডলারের জোগান তুলনামূলকভাবে কম ও ঠিকঠাক নয়। তিনি আরও যোগ করেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ধৈর্য হারাচ্ছেন। অক্টোবরে এক মাস আমরা বিনিয়োগ পেয়েছিলাম, কিন্তু তারপর থেকে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আর কোনো খবর না আসায়, এখন বিনিয়োগ প্রায় থেমে গেছে।
তবে, টাকার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন বলেছেন যে, টাকার পতন নিয়ে খুব বেশি চিন্তা নেই। বুধবার একটি প্রেস কনফারেন্সে তিনি আরও বলেন যে টাকার দুর্বলতা জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে বা রপ্তানির ওপর প্রভাব ফেলবে না। তিনি যোগ করেন যে, ওয়াশিংটন ভারতের উপর চাপানো অতিরিক্ত শুল্কও বাতিল করতে পারে। কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে নাগেশ্বরন বলেন, আমার বিশ্বাস, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই, হয়তো তার আগেও, আমরা অন্তত ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক কমার একটা সমাধান দেখতে পাব।
সংবাদ সংস্থা তাঁকে উদ্ধৃত করে বলেছে, এমনও হতে পারে যে ২৫% পাল্টা শুল্কও কমে সেই স্তরে নেমে আসবে, যা আমরা আগে প্রত্যাশা করছিলাম, অর্থাৎ ১০% থেকে ১৫% এর মধ্যে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি