রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট সার্ক (SAARC) কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ায় পাকিস্তান সম্প্রতি বাংলাদেশ ও চীনের সঙ্গে গড়ে ওঠা ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ভারতকে পাশ কাটিয়ে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ইসলামাবাদ।
বুধবার ইসলামাবাদ কনক্লেভে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তানের ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগ ‘সহযোগিতা জোরদার করার’ লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সহযোগিতা অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলেও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। তাঁর ভাষায়, আমাদের উন্নয়ন আর আঞ্চলিক অগ্রাধিকার কারও কঠোর অবস্থানের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।
সার্ক কেন অচল?
১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সার্কে দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশ রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান। তবে ভারত-পাকিস্তান শত্রুতা এবং ২০১৬ সালে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হওয়ার পর থেকে সংস্থাটি কার্যত স্থবির।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পরাশক্তির রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া সার্ক পুনরুজ্জীবনের কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্যও পিছিয়ে আছে; দক্ষিণ এশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য মাত্র ৫ শতাংশের মতো, যা আসিয়ানের তুলনায় অনেক কম।
কোন প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রস্তাব?
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। ভারত তাঁকে দেশে ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যেখানে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত। অন্যদিকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হয়েছে। এতে ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ দেখছে ইসলামাবাদ।
দার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিরোধ নয়, বরং সংযোগ ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে পাকিস্তান।
নতুন জোটে কারা থাকতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের প্রস্তাব এখনো ‘আকাঙ্ক্ষা’ পর্যায়ে। তবে সার্ক অকার্যকর থাকায় নতুন আঞ্চলিক কাঠামোর জায়গা তৈরি হয়েছে।
অনেকের ধারণা, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান এই চার দেশ কিছুটা আগ্রহ দেখাতে পারে, বিশেষ করে সংযোগ, জলবায়ু অভিযোজন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মতো ইস্যুতে। তবে ভারতের ভূরাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে সদস্যপদ গ্রহণে দেশগুলো সতর্ক থাকবে।
পরিকল্পনা কি সফল হবে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জটিল রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে সবসময় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাই ছোট পরিসরের দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগ এখন বেশি কার্যকর।
তবে পাকিস্তানের কাছে এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়; চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করেছে ইসলামাবাদ। ফলে নতুন আঞ্চলিক কূটনীতিতে নিজেদের ভূমিকা জোরালো করার সুযোগ দেখছে দেশটি। আল-জাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/এসসি