রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আট ঘণ্টা পার হলেও শিক্ষা ভবনের সামনে চলমান অবরোধ তুলে নেননি শিক্ষার্থীরা। তাদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে কাকরাইল, পল্টন, গুলিস্তান, শাহবাগ ও নিউ মার্কেটসহ রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অনেককে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে বাসা বা গন্তব্যে ফিরতে দেখা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। আন্দোলনকারীদের সচিবালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ এবং তিতুমীর কলেজের ৪০০–৫০০ শিক্ষার্থী শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরে বিভিন্ন কলেজ থেকে আরও কয়েকশ শিক্ষার্থী যোগ দিলে পুরো এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে যায়।
অবরোধের কারণে অফিস শেষে যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন। কেউ ব্যাগ হাতে হেঁটে বাসায় ফেরেন, কেউ বাসে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ত্রী-সন্তান বা বৃদ্ধ বাবা-মাসহ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকারকে দায়ী করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম রাত পৌনে ৮টার দিকে জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে দাবি-দাওয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জেনে আসতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হয়। তাদের বলেছিলাম, সচিবালয়ে গিয়ে নিজেরা বুঝে আসতে পারে কতদূর অগ্রগতি হয়েছে। এতে জনদুর্ভোগও কমবে, বলেন তিনি। তবে শিক্ষার্থীরা আলোচনা প্রস্তাব নাকচ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ডিসি আরও বলেন, আমি এখনও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।
দুপুরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা জানান, তারা কোনও ‘এসি রুমের’ আলোচনায় বা সচিবালয়ে যাবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশ জারির ঘোষণা ছাড়া তারা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবে না। দ্রুত অধ্যাদেশ না দিলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো, বলেন তারা।
এসময় ‘উই ওয়ান্ট অর্ডিন্যান্স’, ‘সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আগুন জ্বালো’, ‘তালবাহানা বন্ধ করো, অধ্যাদেশ জারি করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
অবরোধ ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শিক্ষা ভবনের সামনে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাখা হয়েছে জলকামান ও রায়ট কারও।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি