আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা বুধবার টেলিফোনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এটি শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য এক “গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত”।
ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত শান্তি চুক্তিতে যেতে চাপ দিচ্ছে। তবে গত মাসে ওয়াশিংটন সমর্থিত যে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে, সেটি রাশিয়ার পক্ষে ঝুঁকে আছে বলে মনে করছে কিয়েভ।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁ জানান, তিনি ট্রাম্প ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেছেন যাতে শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি আনা যায়।
E3– ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি জানায়, তাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের বিবৃতিতে বলা হয়, এটি ইউক্রেন, তার জনগণ এবং ইউরো–অ্যাটলান্টিক অঞ্চলের সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ইউক্রেনের অনীহা
ইউক্রেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে মার্কিন প্রস্তাবটির সংশোধনে কাজ করছে। মূল প্রস্তাবে কিয়েভকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা বড় অংশের ভূখণ্ড ছাড়তে, ন্যাটোতে যোগদানের লক্ষ্য ছেড়ে দিতে এবং সামরিক সক্ষমতা সীমিত করতে বলা হয়েছে।
E3 দেশগুলো এখন সম্ভাব্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে কাজ করছে, যাতে শান্তিচুক্তি হলে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
E3 জানায়, শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে “জোরালো আলোচনা চলমান রয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও তা অব্যাহত থাকবে”।
জেলেনস্কির সঙ্গে লন্ডনে বৈঠক
এই সপ্তাহের শুরুতে লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ম্যাকরোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁরা কিয়েভের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার ‘কোয়ালিশন অফ দ্য উইলিং’ নামে পরিচিত ইউক্রেন সমর্থক দেশগুলোর একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জেলেনস্কিও সে বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানানো হয়েছে।
পরবর্তী স্থানীয় সময় সোমবার বার্লিনে ম্যাকরোঁ, স্টারমার ও মের্জ আবার বৈঠকে বসবেন বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই কূটনীতিক জানিয়েছে।
রয়টার্স/রিপোর্টার্স২৪/এসসি