স্টাফ রিপোর্টার: মেট্রোরেল কর্মচারীদের ঘোষিত ‘সর্বাত্মক কর্মবিরতি’ ঘিরে শুক্রবার মেট্রোরেল চলবে কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। কর্মচারীরা কর্মবিরতির ঘোষণা দিলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সেবা চালু থাকবে।
নিয়মিত চাকরিবিধি প্রণয়নের দাবিতে গত ৪ ডিসেম্বর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ডিএমটিসিএলের নিয়মিত কর্মকর্তা–কর্মচারীরা। পরে ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দেন তারা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় কর্মচারীরা ১২ ডিসেম্বর সকাল ৭টা থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে উপস্থিত দুই কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আলোচনায় কোনো সমাধান আসেনি। ফলে শুক্রবার মেট্রোরেল চলবে কি না—সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
রাতে ডিএমটিসিএলের নিয়মিত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ব্যানারে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সার্ভিস রুলস প্রণয়ন না করায় শুক্রবার সকাল থেকে সব কর্মকর্তা–কর্মচারী যাত্রীসেবা থেকে বিরত থাকবেন এবং প্রধান কার্যালয়ের সামনে প্রতিদিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের দায়ভার ডিএমটিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।
এদিকে রাত ৯টার দিকে ডিএমটিসিএলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, মেট্রোরেল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা (ডেপুটি ডিরেক্টর) মো. আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, আমাদের অবস্থান ফেসবুক পেজেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৯০০-এর বেশি কর্মকর্তা–কর্মচারীর জন্য কোনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন হয়নি। ফলে ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, ওভারটাইম ও দীর্ঘমেয়াদি পদোন্নতিসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন তারা।