রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ব্রেস্ট ক্যানসারের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ধরন ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রয়োগে আশাব্যঞ্জক সাফল্যের কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাথমিক পরীক্ষায় ভ্যাকসিনটি নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের দেহে উল্লেখযোগ্য ইমিউন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সান অ্যান্টোনিওতে অনুষ্ঠিত ব্রেস্ট ক্যানসার সিম্পোজিয়াম-এ এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে গত শুক্রবার এনবিসি নিউজ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্যাকসিনটি ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সম্ভাবনাময় একটি নতুন পথ খুলে দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি রোগীদের শরীরে শক্তিশালী ইমিউন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে সক্ষম, যা ভবিষ্যতে ক্যানসার কোষ ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এনবিসি নিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনার ৩৬ বছর বয়সী চেইস জনসন ২০২১ সালে ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হলেও এই ধরনের ক্যানসারে পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি বেশি থাকায় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ভ্যাকসিন ট্রায়ালে অংশ নেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৪০ শতাংশের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের মধ্যে রোগ ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভ্যাকসিনটি ল্যাক্টালবুমিন নামের একটি নির্দিষ্ট প্রোটিনকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে, যা প্রায় ৭০ শতাংশ ট্রিপল-নেগেটিভ স্তন টিউমারে পাওয়া যায়। এর উদ্দেশ্য হলো শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে টি-সেলের মাধ্যমে ওই প্রোটিনযুক্ত ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করা।
প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে তিনটি গ্রুপে মোট ৩৫ জন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ৭৪ শতাংশের শরীরে ভ্যাকসিনটি উল্লেখযোগ্য ইমিউন প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। তবে এই প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে ক্যানসার প্রতিরোধ বা পুনরাবৃত্তি কমাতে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
গবেষণায় কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। কেবল ইনজেকশনের স্থানে সামান্য লালচে ভাব বা ছোট গুটির মতো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
গবেষক ড. জি থমাস বাড জানান, আগামী বছর এই ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু হবে। সেখানে প্রথমবারের মতো পরীক্ষা করা হবে—ভ্যাকসিনটি সত্যিই ক্যানসারের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি কমাতে পারে কি না। সফল হলে ভবিষ্যতে উচ্চ জেনেটিক ঝুঁকিতে থাকা নারীদের জন্য এটি প্রতিরোধমূলক ভ্যাকসিন হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম