রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস–২০২৫ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, আগে প্রবাসী অ্যাপসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রবাসীদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা আদায় করা হতো এবং বিদেশগামীদের নানাভাবে দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার হতে হতো। এসব অনিয়ম বন্ধ করতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
তিনি জানান, এই উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’ নামে একটি সম্পূর্ণ অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়া শতভাগ ডিজিটাল করা হয়েছে। এর ফলে দুর্নীতি, হয়রানি ও ভোগান্তির সুযোগ অনেকাংশে কমে গেছে।
উপদেষ্টা বলেন, যারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, তারা এবার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। প্রবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের গুরুত্ব প্রথমবারের মতো ঢাকা বিমানবন্দরের বিভিন্ন রুটিন কার্যক্রমেও প্রতিফলিত হয়েছে। যদিও প্রবাসীদের জন্য নেওয়া নতুন উদ্যোগগুলো এখনো পর্যাপ্ত নয় বলে তিনি স্বীকার করেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথমবারের মতো একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে। এর প্রাথমিক প্রভাব এখনই পুরোপুরি বোঝা না গেলেও ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর আগে বহু সরকার চেষ্টা করলেও এমন চুক্তি সম্ভব হয়নি এবং পাকিস্তান বা ভারতের সঙ্গেও এ ধরনের চুক্তি নেই।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, আগে মালয়েশিয়ায় কর্মরত শ্রমিকদের অনেকেই দেশে ফিরে আসতে পারতেন না, কারণ তাদের একক ভিসা দেওয়া হতো। বিভিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেটি মাল্টিপল ভিসায় রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে, যা প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের অভিযোগ ছিল। সেই সিন্ডিকেট সম্পূর্ণভাবে ডিলিস্টিং করা হয়েছে এবং প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে অবৈধ মুনাফা আদায় বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতের সরকার যদি দেশের মানুষের প্রতি ন্যূনতম ভালোবাসা, ঈমান ও কৃতজ্ঞতাবোধ বজায় রাখে, তাহলে প্রবাসীদের কল্যাণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে এবং চলমান উদ্যোগগুলোকে আরও এগিয়ে নেওয়া যাবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি