রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে অশ্রুসিক্ত বিদায়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে লাখো মানুষ। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত তার নামাজে জানাজা জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ।
জানাজাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন দিক থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ছাত্র-জনতা জানাজাস্থলে উপস্থিত হন। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এদিকে, শহীদ হাদিকে ‘দ্রোহের প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি বলেন, দ্রোহের প্রতীক শহীদ ওসমান হাদির রাজকীয় বিদায়। ধূমকেতুর মতো এলেন। ন্যায় ও ইনসাফের বলিষ্ঠ কণ্ঠ হয়ে গোটা জনপদে বিপ্লবের দাবানল ছড়িয়ে হঠাৎ রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন।
তিনি আরও লেখেন, নিশ্চয়ই আসমানে আমার ভাইকে এর চেয়েও বড় রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানোর আয়োজন চলছে।
হাদির শাহাদাতের উল্লেখ করে আজহারী বলেন, জুমার নামাজের পরপরই গুলিবিদ্ধ, আবার পরের জুমার রাতেই শাহাদাত বরণ! পেয়েছেন কোটি মানুষের কান্না মিশ্রিত দোয়া সুবহানাল্লাহ! এ এক পরম সৌভাগ্য।
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, হাদির মতো দেশপ্রেমিক, আধিপত্যবাদ-বিরোধী ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ। শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না।
সবশেষে মাওলানা আজহারী বলেন, ইনশাআল্লাহ, ওসমান হাদি বেঁচে থাকবেন সহস্র মুক্তিকামী মানুষের ভালোবাসায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা জোগাবেন। সাহসের বাতিঘর হয়ে থাকবেন অগণন মানুষের হৃদয়ে।”
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম