বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাট জেলার একমাত্র সরকারি আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাগেরহাট শহরের কাড়াপাড়া ইউনিয়নের কাঁঠাল এলাকায় অবস্থিত এই খামারটি ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালে একটি সরকারি প্রকল্প হিসেবে চালু হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের শেষ দিকে এটি সরকারি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। খামারটি চালু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলের শত শত মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ নারী-পুরুষ, হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বর্তমানে ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য দিয়ে দেশি হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করানো হচ্ছে। প্রতিবছর এখান থেকে ৫০ হাজারের বেশি একদিনের হাঁসের বাচ্চা সুলভ মূল্যে স্থানীয় মানুষের কাছে বিক্রি করা হয়। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক নারী ছোট-বড় হাঁসের খামার গড়ে তুলে নিজের ও পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আয় করছেন।
তবে খামারটির প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুপেয় পানির সংকট। খামারের ৯০০ ফুট গভীর নলকূপের পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা ও আয়রনের উপস্থিতি রয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, পানিতে টিডিএসের মাত্রা ১২০০ থেকে ১৫০০ পিপিএম, যেখানে স্বাভাবিক পানির মাত্রা হওয়া উচিত ৩০০ পিপিএমের নিচে। এই লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত পানির কারণে বেলজিয়ামের বিখ্যাত পিটারসাইম কোম্পানির দুটি অত্যাধুনিক ইনকিউবেটর মেশিন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আয়রনযুক্ত পানির কারণে ইনকিউবেটরের কম্প্রেসর ও চিলিং সিস্টেম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ ও আয়রনের কারণে ফগার স্প্রে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং শুকনো লবণ জমে হিটার কয়েল ও ট্রেগুলো ক্ষয়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার হার বা হ্যাচেবিলিটিতে। যেখানে নতুন মেশিনে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হ্যাচেবিলিটি পাওয়ার কথা, সেখানে বর্তমানে অনেক সময় তা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যাচ্ছে। এছাড়া খামারের পানি সরবরাহের স্যানিটারি পাইপেও আয়রন জমে ক্ষয় সৃষ্টি করছে।
খামারটির ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ.এফ.এম. ফয়জুল ইসলাম জানান, “পৌরসভার সুপেয় পানির সংযোগ না পেলে ইনকিউবেটর মেশিনগুলোর কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে অদূর ভবিষ্যতে খামারের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।”
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেব আলী বলেন, “এই খামারের ওপর নির্ভর করে শত শত গ্রামীণ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে। লবণাক্ত পানির কারণে উৎপাদন কমে গেলে সরকারের প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের দুটি ইনকিউবেটর নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত পৌরসভার পানির লাইন স্থাপন জরুরি।”
অন্যদিকে বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক ডা. মো. ফকরুল হাসান বলেন, “পানির লাইনের বিষয়ে কোনো আবেদন পেলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের রক্ষণাবেক্ষণ, যার দায় আমাদের সবার।”
সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত সুপেয় পানির সংযোগ নিশ্চিত করা না গেলে এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও এর সঙ্গে যুক্ত শত শত মানুষের জীবিকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন