রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নম্বরের ভুলে গ্রেপ্তার হওয়া মোটরসাইকেল মালিক আব্দুল হান্নানকে জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, তদন্তে স্পষ্ট হয় যে আব্দুল হান্নান হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিক নন। কেবল নম্বর শনাক্তকরণে বিভ্রান্তির কারণে তাকে আটক করা হয়েছিল। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর পুলিশ আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, হাদিকে গুলি করার ঘটনার পর গত ১৩ ডিসেম্বর সন্দেহভাজন হিসেবে আব্দুল হান্নানকে র্যাব-২ আটক করে। পরে তাকে পল্টন মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। পরদিন ১৪ ডিসেম্বর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
রিমান্ড চলাকালে তাকে মোটরসাইকেল শোরুম মালিকের মুখোমুখি করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে তার নামে নিবন্ধিত দুটি মোটরসাইকেলের তথ্য পাওয়া যায়- একটি সুজুকি জিক্সার এবং অপরটি ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের।
তবে তদন্তে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিল হোন্ডা ব্র্যান্ডের হর্নেট মডেলের। আব্দুল হান্নানের মালিকানাধীন সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেলের নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ৫৪-৬৩৭৫। হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরের সঙ্গে একটি সংখ্যার পার্থক্য ছিল, শেষে যেখানে ‘৬’ থাকার কথা, সেখানে ‘৫’ শনাক্ত হওয়ায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
রিমান্ড শেষে ১৭ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হলেও পরবর্তীতে পুলিশের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়, আব্দুল হান্নান প্রকৃত মোটরসাইকেল মালিক নন এবং ভুল নম্বরের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। মোটরসাইকেলে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সর্বশেষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা