রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো পরিস্থিতিতেই আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গতকাল অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের বিষয়টি সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়। বৈঠকে দেশের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনা এবং আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানসহ পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা নিজ নিজ সংস্থার পক্ষ থেকে চলমান পরিস্থিতি ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।
আলোচনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য দেশে প্রত্যাবর্তন, আসন্ন বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় গুরুত্ব পায়। এ সময় উৎসব ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়াও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৩১ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. কাশেম ফারুকি, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, মো. সোহেল রানা এবং মো. শফিকুল ইসলাম। বাকি সন্দেহভাজনদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের আশপাশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো ধরনের বেআইনি ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম