ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সফদারপুর দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ৪তলা একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে "নির্বাচিত মাদ্রাসা সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)" প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ৪ তলা বিশিষ্ট মাদ্রাসা ভবনের উদ্বোধন করেন প্রকল্প পরিচালক এস. এম. মাসুদুল হক (যুগ্ম সচিব)। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মণ্ডলী, শিক্ষার্থী ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ভবনের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন এবং দোয়া করা হয়।
নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন শেষে ভবনের হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত কুমার পাল, কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, ঝিনাইদহের সহকারী প্রকৌশলী এস. এম. জাফরান কবির, উপ-সহকারী প্রকৌশলী এস. এম. হাদিউজ্জামান, প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহাদী খান মেহরাব, সফদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সফদারপুর দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. জুবায়ের হুসাইনসহ এলাকার শিক্ষানুরাগী ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সভায় সভাপতিত্ব করেন সফদারপুর দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত কুমার পাল তার বক্তব্যে প্রকল্পের বিভিন্ন সুবিধা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। ভবনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাদ্রাসার শিক্ষক মণ্ডলী ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। ভবনের নির্মাণ কাজে জড়িত সকল শ্রমিক ও ঠিকাদারকে ধন্যবাদ জানান। নির্মাণের সময় সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য শিক্ষক মণ্ডলীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি "নির্বাচিত মাদ্রাসা সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)" প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এস. এম. মাসুদুল হক (যুগ্ম সচিব) তার বক্তব্যে ভবনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শিক্ষক মণ্ডলী ও শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। টয়লেট ও কমোড ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শিখানোর জন্য মাদ্রাসার শিক্ষক মণ্ডলীকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বৈষম্যের শিকার মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে মূল ধারায় পরিচালিত করার জন্য এবং বৈষম্য দূরীকরণের জন্য এই অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত করে মূলধারার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। অন্যদিকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে নৈতিকতা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটানোর জন্য মাদ্রাসার শিক্ষক মণ্ডলীকে আহ্বান করেন।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে প্রায় ৫০ লক্ষ মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী থাকলেও খুব কম শিক্ষার্থীই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে। এই সংখ্যাকে আরও বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যখন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ৫০% এর বেশি ফলাফল করবে, তখন দেশের দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকাংশে কমে যাবে। কারণ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা ও আদর্শের বিষয়ে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের থেকে অনেক এগিয়ে।
তিনি আহ্বান জানান, প্রতিবছর এই মাদ্রাসা থেকে মেডিকেল বা ইঞ্জিনিয়ারিং-এ চান্স পেতে হবে এমনভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিতে হবে। প্রতিবছর বিসিএস-এ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী চান্স পাবে—তবেই এই মাদ্রাসার সাফল্য, তবেই মাদ্রাসা নির্মাণের সাফল্য, এবং তবেই প্রকল্পের সাফল্য নিশ্চিত হবে।
সভার সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্যে মাদ্রাসায় বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং মাদ্রাসায় বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন