স্টাফ রিপোর্টার: অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। গড়ে প্রায় ০.৫ শতাংশ কমানো হতে পারে। বড় বিনিয়োগে কম, ছোট বিনিয়োগে বেশি হার রাখার নীতি বজায় থাকবে।
অর্থ বিভাগের প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হবে। অর্থ উপদেষ্টার অনুমোদনের পর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) পরিপত্র জারি করবে।
বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৯.৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে প্রায় ০.৫ শতাংশ হার কমানোর কথা বলা হয়েছে। ছোট অঙ্কের বিনিয়োগে হার তুলনামূলক বেশি এবং ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে হার কম নির্ধারণ করা হবে।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধির স্বার্থে ব্যাংকাররা মুনাফা কমানোর পরামর্শ দিয়েছে। আমরা সার্বিক স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। বর্তমানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে মুনাফা ১১.৯৩ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে কম বিনিয়োগে ১১.৯৮ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ।
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের মেয়াদি হিসাবেও কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৮২ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ। তবে কিছু বিশেষ বন্ডের মুনাফার হারে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, মুনাফা কমলে সঞ্চয় সরকারি তহবিল থেকে ব্যাংকে আসবে, যা বেসরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই–অক্টোবর মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকার নিট ২,৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি